যশোরের শংকরপুর এলাকায় ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে (৫৩) গুলি করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহতের আপন জামাতা বাসেদ আলী পরশ। শ্বশুরের বিপুল সম্পত্তি ও গাড়ির প্রতি লোভ এবং স্ত্রীর ওপর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই তিনি এই খুনের পরিকল্পনা করেন।রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের জামাতা বাসেদ আলী পরশ এবং তার সহযোগী শংকরপুর এলাকার আমিনুল ইসলাম সাগর-কে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় নামীয় ২ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, আটক পরশ দীর্ঘদিন ধরেই তার শ্বশুর আলমগীরের সম্পত্তির ওপর নজর রাখছিলেন। এছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলমগীরের মেয়ের (পরশের স্ত্রী) প্রতিও তার চরম ক্ষোভ ছিল। অন্যদিকে, আটক অন্য আসামি সাগরের সাথেও আলমগীরের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক শত্রুতা ছিল। এই দুই পরিকল্পনাকারী নিজেরা সরাসরি অংশ না নিয়ে ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করে আলমগীরকে সরিয়ে দেওয়ার ছক আঁকেন।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে আলমগীর হোসেন মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। শংকরপুর ইসহাক সড়কের হুদা মেমোরিয়াল একাডেমির সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে হেলমেট পরিহিত দুই সন্ত্রাসী আরেকটি মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি গুলি তার মাথার বাম পাশে বিদ্ধ হলে তিনি সাথে সাথেই রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল পরিকল্পনাকারীদের আটক করতে সক্ষম হয়। পুলিশ সুপার আরও জানান, "আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সরাসরি অংশ নেওয়া খুনিদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে। বর্তমানে খুনিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।উল্লেখ্য, নিহত আলমগীর হোসেন যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং এলাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024