জরাজীর্ণ এক ছাপরা ঘর। উইপোকায় খাওয়া কাঠের বেড়া আর চুইয়ে পড়া বৃষ্টির ভয়। যেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু পেতেই বাবা-মাকে রাত কাটাতে হয় বারান্দায়, সেই জীর্ণ কুটির থেকেই আজ ভেসে এলো এক আকাশ জয়ের খবর। যশোরের কেশবপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মেয়ে তিথি সাহা (১৯) এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নীলফামারী মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন।কিন্তু এই সাফল্যের আনন্দ ছাপিয়ে এখন তিথির পরিবারে জেঁকে বসেছে এক তীব্র বিষাদ। কারণ, যে ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, সেখানে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কি বিলাসিতা?তিথির বাবা ভ্যানে করে গ্রামে গ্রামে জুস ও মসলা ফেরি করেন। আর মা মাধবী সাহা দিনরাত পরিশ্রম করে ঘরে বানান কাগজের ঠোঙা ও পাঁপড়। সামান্য আয়ে কোনোমতে দিন চললেও মেয়ের পড়ার জেদকে হার মানতে দেননি তারা। তিথিও তার প্রতিদান দিয়েছেন মেধা দিয়ে। এসএসসি ও এইচএসসি—উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছা থাকলে দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারে না দারিদ্র্য।

মা মাধবী সাহা ছলছল চোখে বলেন, "মেয়ের ফরম পূরণের টাকাও ধার করে জোগাড় করেছি। শিক্ষকরা অনেকে ফ্রিতে পড়িয়েছেন বলে ও আজ এতদূর আসতে পেরেছে। কিন্তু এখন নীলফামারীতে গিয়ে ভর্তি হওয়ার টাকা কোথায় পাব? আমাদের স্বপ্ন কি তবে শুরুতেই শেষ হয়ে যাবে?"আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে ভর্তির কাজ সম্পন্ন করতে হবে। নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ভর্তির ফি এবং প্রাথমিক আনুষঙ্গিক খরচের এই বোঝা তিথির পরিবারের জন্য পাহাড়সম।তিথি সাহা স্বপ্ন দেখেন একজন চিকিৎসক হয়ে তার মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। কিন্তু অর্থের অভাবে একজন মেধাবীর স্বপ্ন এভাবে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হতে পারে না। সমাজের হৃদয়বান মানুষ, বিত্তশালী ব্যক্তি কিংবা কোনো স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান যদি তিথির পাশে দাঁড়ায়, তবেই হয়তো এই ভাঙা ঘরের মেয়েটি একদিন স্টেথোস্কোপ হাতে বদলে দেবে এক একটি প্রাণ।আসুন, আমরা যে যার জায়গা থেকে তিথির এই স্বপ্ন যাত্রায় শামিল হই। একটি মেধার অকাল মৃত্যু রোধ করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024