|
Date: 2026-01-07 14:32:08 |
যশোরের চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত নিহতের জামাতা বাসেদ আলী পরশ ও তার সহযোগী আসাবুল ইসলাম সাগরকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। আসামি বাসেদ আলী পরশ নিহত আলমগীরের মেয়েকে বিয়ে করলেও তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। সম্পত্তি এবং পারিবারিক নানা বিষয়ে শ্বশুরবাড়ির সাথে তার তিক্ততা বাড়তে থাকে। সম্প্রতি তার স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে গেলে সেই ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ রয়েছে, এই পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করেই শ্বশুরকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক আঁকেন পরশ।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় আসামি আসাবুল ইসলাম সাগরের সাথে নিহতের বিরোধ ছিল এলাকাভিত্তিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আলমগীরের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়িতে হামলা চালাতে যান সাগর। সে সময় বাধা হয়ে দাঁড়ান আলমগীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারেও আলমগীরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন সাগর—এমন তথ্য এখন পুলিশের হাতে।পুলিশের ধারণা, পরশ এবং সাগর নিজেরা সামনে না থেকে পেশাদার ভাড়াটে খুনি (শুটার) ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে শংকরপুর এলাকায় আলমগীরকে গুলি করে হত্যা করা হয়।নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগমের করা মামলায় আটক এই দুই আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ড চলাকালীন আসামিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং সরাসরি অংশ নেওয়া শুটারদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শংকরপুর এলাকার এই ঘটনায় বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
© Deshchitro 2024