|
Date: 2026-01-11 21:24:11 |
জামালপুরের ইসলামপুরে পুলিশের হাতে আটক মো. জামির উদ্দিন (৭০) নামে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক এক মেম্বারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকার শ্যামলীস্থ জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়েছে। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশী পাহারায় তাঁকে জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। এর আগে গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পলবান্ধা ইউনিয়নের সিরাজাবাদ বাজার থেকে তাঁকে ইসলামপুর থানায় আনেন পুলিশ। প্রায় দেড় যুগ আগে জামির উদ্দিন ইউনিয়নের উপজেলার পলবান্ধা ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দুই মেয়াদে সাধারণ সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সিরাজাবাদ বাজার থেকে জামির উদ্দিন মেম্বারকে আটক করে। এসময় জামির উদ্দিন মেম্বার ভীষণ অসুস্থ, এবিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকে অবগত করে। কিন্তু স্থানীয়দের কথা তোয়াক্কা না করে জামির উদ্দিনকে সরকারি পিকআপযোগে থানায় নিয়ে যায় এসআই হাবিবুর রহমান। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে রাত ১০টার দিকে পুলিশ জামির উদ্দিনকে ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। রাতেই তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান পুলিশ। আজ দুপুরে চিকিৎসাকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসা জন্য জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশনে রেফার্ড করেন। এবিষয়ে এসআই মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, 'বিষয়টি আমি জানি না। এ ছাড়া আমি কাউকে আটকও করিনি।' তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অসুস্থের কথা বলা হলেও তা তোয়াক্কা না করে এসআই হাবিবুর রহমান জামির উদ্দিন মেম্বারকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের দক্ষিণ বাহাদুরপুর গ্রামে জামির উদ্দিনের বাড়িতে আহাজারি চলছে। কান্নাকণ্ঠে কেউ বলছেন, অসুস্থ মানুষকে পুলিশ কীভাবে আটক করল। পুলিশ কী মানুষ না? কেউ বলছেন, রোগে আক্রান্ত যে মানুষটি ঠিকমত চলাফেরা করতে না পারা মানুষটাকে পুলিশ আটক করেছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, 'পুলিশ যদি সত্তোর বছর বয়সী অসুস্থ মানুষকে বিনা মামলায় আটক করতে পারে, তবে আমরা যাব কোথায়? জামির উদ্দিনের জামাতা ফরহাদ হোসেন বলেন, ' আমার শ্বশুর প্রায় ১৫ বছর ধরে শ্বাসকষ্ট, ব্যথা ও হার্ট জনিতসহ নানা রোগে আক্রান্ত। তিনি ঠিকমত হাঁটতে পারেন না। এসআই হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।' ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, 'পুলিশ কী কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছে, সেটাও জানায়নি পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। বর্তমানে পুলিশ পাহারায় জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশনে তাঁর চিকিৎসা চলছে।' ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাইয়ুম গাজী বলেন, 'জামির উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তাঁকে আটকও করা হয়নি। তবে একটি বিষয়ে জিগাস্যাবাদের জন্য তাঁকে থানায আনা হয়। শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেওয়ায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। আজ সন্ধ্যায় তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।' তবে কী কারণে জামির উদ্দিন মেম্বারকে থানায় আনা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলেননি ওসি। এবিষয়ে ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ইমরুল হাসানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এএএম আবু তাহের বলেন, 'জামির উদ্দিন নামে একব্যক্তিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিলো। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।'
© Deshchitro 2024