যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শামছুল আরফিনের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের সাথে চরম অসদাচরণ, দায়িত্ব অবহেলা ও আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়ম প্রতিকার ও শাস্তির দাবিতে মহিরন গ্রামের রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর (খুলনা) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।​লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. শামছুল আরফিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে সেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গরু-ছাগল বা হাঁস-মুরগির চিকিৎসার জন্য গেলে তিনি বলেন, "অফিসের নিচে গ্রাম্য পল্লী চিকিৎসক আছে, তারা দেখবে।" এমনকি তার কক্ষে জনসাধারণের প্রবেশেও অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন তিনি। তার দাবি, তার অনুমতি ছাড়া রুমে কোনো 'পাবলিকের' প্রবেশের অধিকার নেই।

​ভুক্তভোগী কৃষক মুরাদ হোসেন জানান, অসুস্থ গরু নিয়ে হাসপাতালে গেলেও ডা. শামছুল আরেফিনের কোনো সাড়া মেলেনি। এছাড়া ছবি সত্যায়িত করতে গেলে অভিযোগকারী রবিউল ইসলামের সাথেও তিনি অত্যন্ত অশালীন আচরণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।​অনিয়মের অভিযোগ শুধু হাসপাতাল চত্বরেই সীমাবদ্ধ নয়। রায়পুর ইউনিয়নে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ থেকে অনৈতিকভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ওই ইউনিয়নের কয়েকজন ইউপি সদস্য। সংবাদকর্মীরা বিভিন্ন তথ্যের প্রয়োজনে যোগাযোগ করলে তিনি সহযোগিতা না করে ওয়েবসাইট দেখার পরামর্শ দেন, যদিও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।​এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শামছুল আরফিন বলেন, "আমি সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে একই সময়ে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব হয় না, হয়তো সেই কারণে কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ দিয়েছেন।"​যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দীকুর রহমান জানান, অভিযোগটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এখন তারাই খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024