|
Date: 2026-01-28 19:50:05 |
চালকের কানে মোবাইল ফোন,প্রতিনিয়ত সড়কে ঝরছে নিষ্পাপ তাঁজা প্রাণ।
গাড়ি চালানোর সময় ফোনে কথা বলা নিষেধ, কিন্তু এ আইন মানে কয়জন? আর তাইতো প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে একের পর এক দুর্ঘটনা। শুধু চালকের খামখেয়ালিপনায় রাজপথে ঝরে যাচ্ছে হাজার হাজার প্রাণ। ‘একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না’ কথাগুলো আমাদের সকলের জানা থাকলেও সামান্যতম কারণে যে একটি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তার উদাহরণ এসব ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সম্প্রতি গাড়ি চালানোর সময় চালকের মোবাইলে কথা বলা একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। বাস, ট্রেন, ট্রাক, প্রাইভেট কার, লেগুনা, মোটরসাইকেল, সিএনজি এমনকি রিক্সাচালকেরা চলন্ত অবস্থায় ফোন কানে নিয়ে কথা বলায় ব্যস্ত থাকেন। এ বিষয়ে আইন থাকা সত্ত্বেও কারও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। অথচ চলন্ত অবস্থায় চালক মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণেই বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, অনেকে মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন চলন্ত অবস্থায় চালক কথা বলাকে। রাজধানীসহ সারাদেশে হরহামেশা এ চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এভাবে কথা বলার কারণে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি যেসব বড় দুর্ঘটনা ঘটছে তার প্রধান কারণও এই মোবাইল ফোনের ব্যবহার। চালক গাড়ি চালানোর সময় ফোনে কথা বলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে যায়। জানা যায়, কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস লাখাইয়ের রাঢ়িশাল নামক স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে চলে যায়। এ সময় কেউ নিহত না হলেও কিন্তু আহত কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ।
এইতো গত ২৪ জানুয়ারি রাতে পিকআপ ভ্যান নিয়ে ফরিদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন বুল্লা ইউনিয়নের পূর্ব বুল্লা গ্রামের মৃত আজম আলীর ছেলে রিপন মিয়া (২৫) পথে পদ্মা সেতুর নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাঁর পিকআপকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তরুণ এই যুবক। সোমবার পুর্ব বুল্লা গ্রামে তাঁর নামাজে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।
অন্যদিকে, গত কয়েকদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন উপজেলার করাব ইউনিয়নের সিংহগ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র মুখলিছুর রহমান। ৫ দিন আগে দ্রুতগামী একটি হাইয়েস গাড়ির ধাক্কায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। এরপর সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টানা ৬ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গতকাল সোমবার সিংহগ্রামে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।
গাড়ি চালানোর সময় যেমন কানে ফোন অথবা এয়ারফোন লাগানো থেকে চালকদেরকে বিরত থাকতে হবে ঠিক তেমনি জনগণের সচেতনতায় পারে আকস্মিক এসব দুর্ঘটনা থেকে রোধ করতে। চলন্তু অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার রোধে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা রোধ করতে ২০০৭ সালে মোটরযান আইনের সংশোধন করা হয়। ওই বছর ১২ জুলাই গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা না বলার বিষয়ে মোটরযান আইনের ১১৫(বি) ধারার সংশোধন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি আইনে এয়ারফোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ আইন অমান্য করলে পাঁচশত টাকা জেল জরিমানার করার বিধান রয়েছে। কিন্তু হরহামেশা এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ উদাসীন।
সম্প্রতি যে সব বড় দুর্ঘটনা ঘটছে তার পেছনে রয়েছে মোবাইল ফোনের ব্যবহার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় চালক প্রায় অসতর্ক অবস্থায় থাকে। এছাড়া পাশে বসা অন্যান্য যাত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় অসতর্ক হয়ে বেপরোয়া গাড়ি চালায়। কিন্তু যারা বেপরোয়া গাড়ি চালায়, এসব চালকের অনেকেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। হেলপার হয়ে ড্রাইভারের কাজ করা, চলন্ত গাড়িতে চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার একটি স্বভাবে পরিণত হয়েছে। চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইন থাকলে তার কোন প্রয়োগ নেই। শুধু দুর্ঘটনা ঘটলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তৎপর হতে দেখা যায়। আবার সবকিছু হয়ে যায় আগের মতো। কিন্তু মাঝখানে যে তরতাজা প্রাণগুলো হারিয়ে যায় তা কোনদিন ফিরে পাওয়ার নয়।
© Deshchitro 2024