কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের উপস্থিতি শুধু একটি অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়ায় না হৃদয়ে রেখে যায় গভীর ছাপ। আজ Oxford International School-এর Annual Sports Day 2025–26 তেমনই এক আবেগঘন দিনে রূপ নিয়েছে সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও প্রেরণাদায়ক ক্রীড়া সংগঠক রেহানা পারভীন-এর উপস্থিতিতে। তাঁর আগমন যেন পুরো মাঠজুড়ে ছড়িয়ে দিল অনুপ্রেরণার আলো।

রেহানা পারভীন শুধু মাঠের তারকা নন, তিনি একজন সাদা মনের মানুষ। হাস্যোজ্জ্বল মুখ, সহজ-সরল আচরণ আর নিখাদ আন্তরিকতায় তিনি মুহূর্তেই সবার আপন হয়ে ওঠেন। শিশুদের চোখে তাঁর দিকে তাকানোর সেই বিস্ময়, স্বপ্ন আর ভালোবাসা সব মিলিয়ে মুহূর্তগুলো ছিল ভীষণ অনুভূতির। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর প্রাণবন্ত মেলামেশা প্রমাণ করে, মানুষের কাছে পৌঁছাতে বড় পদবি নয়, দরকার বড় হৃদয়।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি যখন নিজের জীবনের গল্প বলছিলেন সংগ্রাম, পড়ে যাওয়া আর আবার উঠে দাঁড়ানোর কথা তখন অনেক চোখে নীরব অশ্রু ঝরে পড়ে। তাঁর প্রতিটি কথা ছিল সাহসের ভাষা, প্রত্যাশার ভাষা। তিনি বললেন, খেলা শুধু জয়ের জন্য নয়, খেলা শেখায় হারকে সম্মান করতে, দলকে ভালোবাসতে আর নিজেকে বিশ্বাস করতে।

খেলার মাঠে দেশের জন্য তাঁর গৌরব যেমন ইতিহাস, তেমনি মাঠের বাইরে তিনি নতুন প্রজন্মের আশার নাম। আজকের এই ক্রীড়া দিবসে শিক্ষার্থীদের মনে তিনি বুনে দিলেন আত্মবিশ্বাসের বীজ, স্বপ্ন দেখার সাহস আর শৃঙ্খলার শক্তি।

অনুষ্ঠান শেষে অনেক শিক্ষার্থী তাঁকে জড়িয়ে ধরতে চাইছিল, যেন প্রিয় কেউ কাছে এসেছে। সেই দৃশ্যই বলে দেয় রেহানা পারভীন একজন মানুষ নন, তিনি এক অনুভূতির নাম।

এমন একজন অনুপ্রেরণাদায়ক মানুষকে কাছ থেকে পাওয়া আমাদের জন্য গর্বের, সৌভাগ্যের। রেহানা পারভীনের জন্য রইল হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অফুরন্ত শুভকামনা।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024