|
Date: 2026-01-31 16:12:04 |
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত সুরক্ষায় অভেদ্য দুর্গ গড়ে তুলেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ অনুপ্রবেশ এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে জারি করা হয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বেনাপোল-যশোর মহাসড়ক সংলগ্ন আমড়াখালি বিজিবি চেকপোস্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকি, এসপিপি, পিবিজিএম, পিএসসি।বিজিবি অধিনায়ক জানান, এবারের নির্বাচনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল ম্যানুয়াল টহল নয়, যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ড্রোন এবং বিজিবি সদস্যদের পোশাকে থাকছে বডি ওর্ন (Body-worn) ক্যামেরা। এছাড়া বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তকরণে বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে।
যশোর ৪৯ বিজিবির অধীনে থাকা ৩টি জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে ৩১ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন (যশোর) বিবেচনায় নিলে ১৮টি জেলার ৬২টি সংসদীয় আসনে মোট ১৮৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থাপন করা হয়েছে ৯৩টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প।সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক আশ্বস্ত করে বলেন,"আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা এবং ভোটারদের মনে আস্থা তৈরি করা। কোনো অবস্থাতেই দেশের ভেতরে অবৈধ অস্ত্র বা বহিরাগতদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আমরা চাই প্রতিটি মানুষ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজিবি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ (Level Playing Field) নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।সারাদেশের সীমান্ত সুরক্ষিত রেখে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত থাকছেন ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য। দেশের ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় হেলিকপ্টার সম্বলিত কুইক রেসপন্স ফোর্স (QRF) এবং র্যাপিড অ্যাকশন টিম (RAT) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।বর্তমানে আমড়াখালি চেকপোস্টসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির এই কঠোর অবস্থান জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
© Deshchitro 2024