পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ১০ম গ্রেডের কারিগরি পদগুলোতে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে যশোর। এই সিদ্ধান্তকে ‘অধিকার হরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে শনিবার দুপুরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।শনিবার বেলা ১২টায় পলিটেকনিক ক্যাম্পাস থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর ১০ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেন শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপি প্রদান শেষে তারা কার্যালয় চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং নিজেদের দাবির পক্ষে স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীরা মনে করেন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নির্ধারিত ১০ম গ্রেডের পদে বিএসসিদের প্রবেশের সুযোগ দিলে তাদের কর্মসংস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।দক্ষতার মূল্যায়ন চাই: দীর্ঘমেয়াদি হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত বিশেষ দক্ষতাকে সাধারণ বিএসসি ডিগ্রির সাথে গুলিয়ে ফেলাকে তারা ‘বৈষম্য’ হিসেবে দেখছেন।নীতিমালা বাতিলের দাবি: সম্প্রতি নীতিমালার যে পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া ইমামুল হোসেন ও মেহেদী হাসান মাহিন জানান, পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা দেশের কারিগরি খাতের মেরুদণ্ড। কিন্তু তাদের জন্য বরাদ্দকৃত পদে অন্যদের নিয়োগ দিলে এই শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারাবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মুরতাসিম মাশরাফিসহ উপস্থিত ছাত্ররা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা না হয়, তবে তারা আরও কঠোর রাজপথের কর্মসূচি দেবেন।দাবি আদায় না হলে সারা দেশের পলিটেকনিকগুলোতে একযোগে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024