মরণব্যাধি আর ভুল চিকিৎসার ধকল কাটিয়ে যখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছিল কিশোরী আফসানা জেরিন, তখনই বাধার পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে তার নিজ বিদ্যালয়। দীর্ঘ দুই বছর হাসপাতালের বিছানায় কাটানোর পর পড়াশোনায় ফিরতে চাইলেও তাকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। যশোরের নিউ টাউন গার্লস হাই স্কুলের বিরুদ্ধে এমন অমানবিক আচরণের অভিযোগ তুলে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আফসানার মা তামান্না ইসলাম।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মা তামান্না ইসলাম মেয়ের জীবনযুদ্ধের করুণ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২২ সাল থেকে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফসানা।পিত্তথলির পাথর অপারেশনের সময় চিকিৎসকের ভুলে তার খাদ্যনালী কেটে যায়। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা আফসানাকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে কাটাতে হওয়ায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সে অংশ নিতে পারেনি।

সংবাদ সম্মেলনে মা তামান্না ইসলামের মূল অভিযোগগুলো: ২০২৬ সালে জেরিনের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এই শেষ সুযোগটি নষ্ট হলে তার শিক্ষাজীবন চিরতরে থমকে যাবে।গত সেপ্টেম্বরে প্রধান শিক্ষিকার অনুমতি নিয়ে মেয়ে স্কুলে নিয়মিত হলেও এবং নিয়মিত বেতন-ফি পরিশোধ করলেও, টেস্ট পরীক্ষার পর তাকে ফরম পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে না।তামান্না ইসলামের দাবি, বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক তার মেয়ের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেছেন এবং তাকে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত অকৃতকার্য হওয়ার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অপমান করেছেন।প্রাইভেট না পড়ার কারণেও কিছু শিক্ষক জেরিনের প্রতি প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।আফসানার মা আবেগাল্পুত হয়ে বলেন, "আমার মেয়ে অসুস্থতার কারণে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আমি শুধু একটু মানবিক সহযোগিতা চেয়েছি, কিন্তু তারা আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।"

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে নিউ টাউন গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুরাইয়া শিরিন সাংবাদিকদের জানান, আফসানা জেরিন পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল করতে পারেনি। অনেক বিষয়ে সে ৫ বা ৭ নম্বরের মতো অত্যন্ত কম নম্বর পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, নিয়মানুযায়ী খাতা দেখানো হয়েছে এবং মায়ের তোলা দুর্ব্যবহারের অভিযোগ সত্য নয়।রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হতে চলায় এই বছর পরীক্ষা দিতে না পারলে একটি মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে। এই সংকট নিরসনে যশোর শিক্ষা বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024