যশোরের মেহনতি মানুষের প্রিয়মুখ, হোটেল শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আজীবন লড়াকু সৈনিক আমির হোসেন আর নেই। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত ৪টায় বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে যশোরের শ্রমিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।আমির হোসেন কেবল একজন নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ শ্রমজীবী মানুষ। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি যশোরের নিউ ভৈরব হোটেলের সিনিয়র বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উনুন থেকে রাজপথ—সর্বত্রই তাঁর বিচরণ ছিল সগৌরবে।

১০টি হোটেলের শ্রমিকদের নিয়ে টানা ২৯ দিন ধর্মঘট করে বেতন বৃদ্ধি ও উৎসব ভাতা নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের হোটেল সেক্টরের প্রথম গেজেট বাস্তবায়ন এবং শ্রম আইন কার্যকরে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। দুই ঈদে পূর্ণ মজুরি ও মে দিবসে সবেতনে ছুটির দাবিতে তিনি কখনোই আপস করেননি।বুধবার দুপুরে মরহুমের মরদেহ যশোর টাউন হল ময়দানে রাখা হলে সেখানে রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান। জোহর নামাজ শেষে এমএম আলী রোডস্থ গণপূর্ত কার্যালয় সংলগ্ন মসজিদে জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর চিরনিদ্রায় শায়িত হন বেজপাড়া কবরস্থানে।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন যশোর জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি মজিবর রহমান খান মহারাজ ও সাধারণ সম্পাদক কামাল পারভেজ বুলু। এক যৌথ বার্তায় তাঁরা বলেন, "আমির হোসেন ছিলেন আমাদের অভিভাবক। তাঁর লড়াই আমাদের সামনের দিনগুলোতে পথ দেখাবে।"মৃত্যুকালে তিনি বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাবেক সহ-সভাপতি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই বিদায়ে শ্রমিক আন্দোলনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024