ভূমিধস জয়ে তাকে অহংকারী করেনি বরং বিনয়ী করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ শৈলকুপা আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক অ্যাটর্নী জেনারেল অ্যাড. আসাদুজ্জামান। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১.৭১.৭৫৬ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামি মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এ এস এম মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫. ৯৩০ ভোট। এ আসনের মোট ভোটার ছিল ৩২৫ ২৭৮ জন। ৭২.৯৫% ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। অ্যাড. আসাদুজ্জামান বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন এটি প্রায় নিশ্চিত ছিল। ৫ আগস্ট পরবর্তী ঝিনাইদহের হানাহানি, মারামারি, খুন খারাবীময় একটি উপজেলাকে তিনি সন্তানের মতো আগলে রেখেছিলেন। বিগত দেড় বছরে অ্যাটর্নী জেনারেলের মতো একটি রাষ্ট্রীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকায় এলাকার উন্নয়নে তিনি কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। যে কারনে অবহেলিত শৈলকুপায় তিনি ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করতে পেরেছেন। এলাকাটিকে শান্ত রাখার জন্য তিনি আওয়ামীলীগসহ বিরোধী কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী যাতে হেনস্থার শিকার না হন, কারো ঘরবাড়ি ভাংচুর, চাঁদাবাজি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার শিকার না হন তার জন্য তিনি ছিলেন কঠোর। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারেন সে ব্যাপারে তিনি সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। যে কারনে উপজেলার মানুষ তার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করতে পেরেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যারা আওয়ামীলীগের থলের ভোট হিসেবে পরিচিত তাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিগত একটি ইউপি নির্বাচনে এ উপজেলার একটি ইউনিয়নে ৮ জন মানুষ খুন হয় যা এলাকাটিকে একটি অশান্ত উপজেলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই অশান্ত রাজনৈতিক পরিবেশকে শান্ত করতে নির্বাচনের পূর্বেই নতুন সংস্কৃতি চালু করেছেন বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া সাবেক অ্যাটর্নী জেনারেল আসাদুজ্জামান। তিনি সব ভোটারকে সম মর্যাদা দিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চেয়েছেন। স্পষ্ট উচ্চারণে তিনি বলেছিলেন দুর্নীতি বা পেশি শক্তির নির্বাচনে জয়ী হতে চান না। একটি জাল বা অবৈধ ভোট যাতে কেউ না দিতে পারে সে ব্যাপারে নেতাকর্মী দের সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যদি নির্বাচিত হন তবে সবাইকে নিয়ে নতুন শৈলকুপা তৈরি করবেন। নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনি যেটা করেছেন সেটি অনুকরণীয়। শৈলকুপার গ্রামীণ রাজনীতিতে আধুনিক রাজনীতির পরশ দিয়ে তিনি পরাজিত প্রার্থীর বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে একসাথে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ ব্যতিক্রমী কার্যক্রমে এলাকার সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। শৈলকুপাবাসী একজন সত্যিকার দেশপ্রেমিক জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে পেরেও উচ্ছ্বসিত। জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি স্বপন বাগচী এক স্টাটাসে তার আবেগঘন অভিব্যক্তি প্রকাশ করে লিখেছেন “আগামীর শৈলকুপা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান এর হাত ধরে এগিয়ে যাবে। দেশের সকল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা তাকে অনুসরণ করতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে বহুদূর।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024