|
Date: 2026-02-15 16:03:37 |
ভোট দিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছিলেন সাবিকুন নাহার।কোলে নতুন অতিথি আসার আনন্দ ছিল চোখেমুখে। কিন্তু সেই আনন্দ বিষাদে রূপ নিতে সময় লাগেনি মাত্র কয়েক ঘণ্টা। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ‘বাঁকড়া মেডিকেল সার্ভিসেস’-এ সিজারিয়ান অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও অব্যবস্থাপনায় প্রাণ হারিয়েছেন মাঠশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই অফিস সহকারী। স্বজনদের অভিযোগ—কোনো বিশেষজ্ঞ সার্জন নয়, বরং ক্লিনিকের মালিক ও তার ডেন্টিস্ট স্ত্রীই চালিয়েছেন এই অপারেশন।
নিহতের স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বুধবার ডা. পল্লবী সাহার তত্ত্বাবধানে অপারেশনের চুক্তি হয়েছিল।বৃহস্পতিবার সকালে সাবিকুন নাহার নিজে হেঁটে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসেন। এরপর ক্লিনিক থেকে জরুরি ফোন এলে তাকে সেখানে নেওয়া হয়। মামুন বলেন, “আমি নিচে চা খেতে গিয়েছিলাম, ফিরে এসে শুনি আমার অনুমতি ছাড়াই তাকে ওটিতে ঢোকানো হয়েছে। কিছুক্ষণ পর একজন নার্স বা আয়া নয়, স্বয়ং মালিক এসে আমার কোলে নবজাতককে তুলে দেন।”
নিহতের স্বজনদের বর্ণনায় উঠে এসেছে এক বীভৎস চিত্র।সাবিকুন নাহারের চাচী শাশুড়ি নাসরিন বেগম জানান:“ওটির ভেতর কোনো নিয়মকানুন ছিল না। যে কেউ জুতো পায়ে ঢুকছিল। আমি ভেতরে গিয়ে দেখি প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একজনকে ডাক্তার ভেবে প্রশ্ন করলে তিনি জানান তিনি ডাক্তার নন। মূলত ক্লিনিকের পরিচালক সামিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ডেন্টিস্ট নিলুফা ইয়াসমিনই সব করছিলেন।”
অবস্থার অবনতি হলে তড়িঘরি করে রোগীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে আঁতকে ওঠেন। পরিবারের দাবি, ভুল অস্ত্রোপচারে রোগীর জরায়ুসহ ‘ফুল’ কেটে ফেলা হয়েছিল। জীবন বাঁচাতে প্রায় ২০ ব্যাগ রক্ত দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। খুলনার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ক্লিনিকেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন করে ফেলা হয়েছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ক্লিনিকটির পূর্ব নাম ছিল ‘বাঁকড়া সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’। অতীতেও সেখানে বড় ধরনের চিকিৎসা বিভ্রাট ও মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। আইনি জটিলতা এড়াতে ও মানুষের চোখে ধুলো দিতেই নাম পরিবর্তন করে ‘বাঁকড়া মেডিকেল সার্ভিসেস’ রাখা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।নিহতের দুই ননদ ফারজানা ও শাহানারার একটাই দাবি—সুষ্ঠু বিচার। তারা জানান, কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা দক্ষ নার্স ছাড়াই একটি জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। এই ‘কসাইখানা’ বন্ধ না হলে আরও অনেক মায়ের কোল খালি হবে।
© Deshchitro 2024