লাখাইয়ে সেচের পানির অভাবে ফসলি জমি মরুভূমি, কৃষকের হাহাকার লাখাইয়ের সুতাং নদীর সেচ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের কৃষকেরা পানির অভাবে বোরোধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১নং লাখাই,৩নং মুড়িয়াউক, ৪নংবামৈ,৫ন করাব,এবং ৬নং বুল্লা ইউনিয়নের পানির সংকটে বোরো ধান চারা লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। সরেজমিনে ৬নং বুল্লা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একরের পর একর জমির কৃষকের ধানের চারা রোপন করার পর একবার পানি দিলেও আর পানি দিতে পারে না, পানির অভাবে আবাদ করা চারা মরে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে দুই-একটি জমিতে ধানের চারার দৃশ্য দেখা গেলেও সেগুলোও পানি শূন্য। এদিকে খাল ডোবাতেও পানি দেখা যাচ্ছে না।  স্থানীয়রা জানায়,আজ থেকে১০/১২ বছর আগে সুতাং নদী গভীর থাকায় পর্যাপ্ত পানি থাকতো,তখন তারা সেচের মাধ্যমে ইরি-বোরো মৌসুমে চাষাবাদ করতেন। কিন্তু কয়েক বছর নদীতে প্রাণ আর এফ এল কোম্পানির শিল্পবর্জ্যে আবর্জনায় নদী কানায় কানায় ভরে গিয়াছে, যার কারনে বর্তমানে নদীতে পানির খবর নেই। এ বিষয়ে কৃষকরা জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরে বৃষ্টির দেখা নেই, নদীতে পানি নেই, পানি অভাবে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে, জমি শুকিয়ে আছে। এছাড়াও অনেকে নদীর গভীরে একটু পুরোনো পানি দিয়ে সেচ দিয়ে শুরু করে বিপাকে পড়েছেন। করাব গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম জানান,আমি ১০একর ধানের চারা জমিতে রোপন করেছি,নদীতে নতুন জোয়ার পানি আসলে সেচ দিয়ে কীটনাশক ব্যবহার করলে ধান গাছ মোট তাজা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে পানি না আসায় ধানের চারা লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। আমাদের অতি দ্রুত স্কীমের পানি প্রয়োজন। কৃষক জাকির হোসেন জানান, গত ৩০-৪০ বছর ধরে নদী সংস্কার করা হচ্ছে না। এই এলাকা কিছুটা উঁচু হওয়ার কারণে পানি সঞ্চালনায় সমস্যা হয়। তাই নদী খনন করাও জরুরি। যাতে আমরা সারাবছর নিরবচ্ছিন্ন পানি পেতে পারি। বামৈ গ্রামের সেচ ম্যানেজার আব্দুল কাদের জানান, প্রতি মৌসুমের জানুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যে কৃষকদের ধান চাষ শেষ হয়ে গেলেও আমি সেচ মেশিন নিয়ে প্রস্তুত থাকলেও নদীতে পানি না থাকায় কিছুই করতে পারছি ন। এতে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। নদী সংস্কার করা প্রয়োজন। জমিতে হালচাষ, বীজ, ড্রেন সংস্কার করার কারণে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। পানি আসবে ভেবে অনেকে জমিতে পানি তুলে ধানের চারা রোপণ করেছেন, কিন্তু এখনো পানি আসেনি। যদি ১/২দিনের মধ্যে পানির জোয়ার না আসে তাহলে কৃষকদের ভিক্ষা করতে হবে।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024