|
Date: 2026-03-13 22:34:48 |
নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতিতে বিধিমালা লঙ্ঘন করে ‘পারিবারিক কমিটি’ গঠন এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সমিতির সাবেক সম্পাদক মো. আবু জাফর দুলালের বিরুদ্ধে অনিয়মের এই অভিযোগ তুলে জেলা ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন সাধারণ সদস্যরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কোনো প্রকার সাধারণ সভা (এজিএম) ছাড়াই নিজের পছন্দের লোক দিয়ে একটি কমিটি অনুমোদন করিয়ে নেন সাবেক সম্পাদক আবু জাফর দুলাল। সমবায় আইন অনুযায়ী সাধারণ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও তা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।
নবগঠিত এই কমিটিতে দুলালের জামাতা জিয়াউর রহমানকে সম্পাদক এবং এক নিকটাত্মীয়কে সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে তার স্ত্রী ও ভাগ্নি-বউসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ সদস্য শাহাজাহান ও ফাতেমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "লোকচক্ষুর আড়ালে গোপনে এই পকেট কমিটি করা হয়েছে, আমাদের কিছুই জানানো হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, পরিবারের সদস্যদের কমিটিতে বসিয়ে সমিতির তহবিলের টাকা নয়ছয় করছেন সাবেক সম্পাদক। পানি সম্পদের একটি প্রকল্পে ১৮ লাখ টাকার মাটির কাজ দেখানো হলেও বাস্তবে কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমুখী।
সবচেয়ে অমানবিক বিষয় হলো, ওই প্রকল্পে কাজ করা ২৫ জন এলসিএস (LCS) সদস্য তাদের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পারিশ্রমিক এখনো পাননি। এলসিএস সদস্য ফকরুল ইসলাম জানান, কাজ শেষ হলেও পাওনা টাকা না পাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ইতিমধ্যেই জেলা ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ প্রকৌশলী এবং উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর প্রাথমিক অনুসন্ধানে আর্থিক অসঙ্গতির প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
জেলা সমবায় কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আতিকুর রহমান বলেন:“একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বর্তমান কমিটি বাতিল করে ‘ডিসপিউট মামলা’সহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, অভিযুক্ত সাবেক সম্পাদক মো. আবু জাফর দুলালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অনুমোদিত কমিটির সদস্যরা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগ) সমর্থক হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো সময় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ সদস্যরা দ্রুত এই ‘অবৈধ’ কমিটি বাতিল করে স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
© Deshchitro 2024