|
Date: 2026-03-19 13:39:53 |
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বুধবার ভোর রাতে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের অন্তর্গত জহুর আলী মোড়লের বাড়ির সামনে এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার না করা হলে পুরো বাঁধ খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে যে কোনো সময় নদীর পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হতে পারে পুরো আনুলিয়া ইউনিয়ন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছরের ঈদের দিন (৩১ মার্চ) সকাল পৌনে ৯টার দিকে একই গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে আব্দুর রহিম সরদারের ঘেরের পাশ থেকে প্রায় দেড় শ ফুট এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়। তখন গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে একটি অস্থায়ী রিংবাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করেন। কিন্তু দুপুরের জোয়ারের পানির চাপে সেই বাঁধ টিকতে পারেনি। ফলে খোলপেটুয়া নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
এক বছর না পেরোতেই আবারও ঈদের আগমুহূর্তে একই এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন এলাকাবাসী। গত বছরের ক্ষতির রেশ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন করে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবু দাউদ বলেন, “বুধবার সকালে নদীর ধারে গিয়ে দেখি, জহুর আলী মোড়লের বাড়ির সামনে পাউবোর বেড়িবাঁধের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অংশ ভেঙে নদীতে চলে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভোরের জোয়ারের সময় এই ভাঙন হয়েছে। অল্পের জন্য বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি। আমরা আপাতত মাটি ফেলে কোনোভাবে জোয়ারের পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিছট গ্রামের এই বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত বছর ভাঙনের আগে ও পরে তিনটি প্যাকেজে সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও কোনো ঠিকাদার কাজ শেষ করেননি। এখনো বিপুল পরিমাণ বালুভর্তি জিও ব্যাগ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এগুলো ভাঙনকবলিত স্থানে ফেলা না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, “ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই সেখানে জিও ব্যাগ ও জিও রোল পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আপাতত পানি প্রবেশ বন্ধে কাজ চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী মেরামত কাজ শুরু করা হবে।”
তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় ভয়াবহ প্লাবনের মুখে পড়তে পারে পুরো আনুলিয়া ইউনিয়ন। তাই ঈদের আগেই স্থায়ী সমাধান চান তারা।
© Deshchitro 2024