সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে তারা। জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর আওতাধীন চান্দুরিয়া বিওপি ও বাঁকাল চেকপোস্ট এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ হিসেবে এসব অভিযান চালানো হয় বলে জানা গেছে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, চান্দুরিয়া বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার ১৭/৭ এস সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানার আমবাগান এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ঔষধ উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত এসব ঔষধের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, একই দিনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁকাল চেকপোস্ট এলাকায় আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, চোরাকারবারীরা এসব পণ্য অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছিল।

বিজিবি জানিয়েছে, শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে এসব পণ্য বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে বিজিবির তৎপরতার কারণে এসব অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ ধরনের চোরাচালান দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর এবং দেশীয় শিল্পের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া, অবৈধ পণ্য আমদানির কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি। তাই সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির এ ধরনের অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, এ ধরনের কঠোর অবস্থানের ফলে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও বিজিবিকে আরও কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024