|
Date: 2026-03-28 00:39:16 |
জামালপুরের ইসলামপুরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় স্থানীয বিএনপির সাত নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, মারধর ও নারীকে লাঞ্ছনার দায়ে থানায় অভিযোগ করার দুইদিন পর পিছু হটলেন পৌরসভার কমিশনার ছামিউল হক।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পৌর শহরের পলবান্ধা উজানপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে চাঁদা দাবি এবং বাড়িতে হামলার ঘটনা অস্বীকার করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছামিউল হক বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় আমাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটতরাজের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে হামলা করা হয়েছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হওয়ায় আমরা দুঃখিত এবং বিব্রতবোধ করছি। তবে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় চাঁদা না দেওয়ায় বাড়িতে হামলা করা হয়েছে মর্মে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আমার স্ত্রী নাজমা বেগম থানায় অভিযোগ দিয়েছিলো। অভিযোগের সব তথ্যই সাজানো এবং ভিত্তিহীন। আমি নিজেও বুঝতে পারিনি। আমার নিজেরও ভুল হয়েছে। আমরা একই এলাকার মানুষ। আমরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছি। ইতোমধ্যে ইসলামপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছি। আমার কারোর প্রতি রাগ-অভিযোগ নেই।
ছামিউল হক উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা আমাকে হেল্প করবেন। প্রশাসন এবং আপনাদের কাছে দাবি করছি, পরে যেন আমার কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়। আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে এই দাবি করলাম।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেলে নাজমা বেগম বাদী হয়ে বিএনপির সাত নেতা-কর্মীর নামে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অপরদিকে একইদিন রাত ১০টার দিকে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে ছামিউলকে 'জুয়াড়ি ও মাদক সম্রাট' আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রির পাল্টা অভিযোগ করেন বিএনপির ওই নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলেন, ছামিউলের বাড়িতে হামলা করা হয়নি। তবে এক হাজার ২০০ শত লিটার পেট্রল মজুদ রেখে বেশি দামে বিক্রি করায় তাঁর বাড়িতে যাওয়া হয়েছিলো।
থানায় দেওয়া নাজমা বেগমের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ৫ লাখ টাকা না দেওয়ায় গত রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উল্লেখিত বিএনপির নেতা-কর্মীসহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্রে তাঁদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটতরাজ করে।
ছামিউল হক নিজেও গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে দাবি করে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে তাঁর কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাঁর মা সাহেরা বেগম এবং ছেলে সম্রাট হোসেনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ দিন চিকিৎসা করান তাঁর মাকে। পরে বাধ্য হয়ে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দেন তিনি। গত ঈদুল ফিতরের আগের দিন তাঁর কাছে আবারও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর ও লুটতরাজ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী নাজমা বেগম দেশচিত্রকে বলেন, 'বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে।'
© Deshchitro 2024