সাতক্ষীরায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি হানি ট্রাপ চক্রের মূলহোতা অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। ফেসবুক মেসেঞ্জার ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তি, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে এ চক্রটি প্রেম ও বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করত বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ জানায়, নারী সদস্যদের ব্যবহার করে প্রথমে টার্গেট ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করা হতো। পরে কৌশলে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজি করা ছিল তাদের প্রধান কৌশল।

গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে সাতক্ষীরা সদর থানার অদূরে মনজিতপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূলহোতা ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের ও তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী শারমিন আক্তার রিমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পিংকু ঢালী।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার হান্নান সরকারের দায়ের করা পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় তারা পলাতক ছিলেন। ওই মামলায় অভিযোগ রয়েছে, হান্নান সরকারকে কৌশলে একটি ভাড়া বাসায় ডেকে এনে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে ৬ ঘণ্টা আটকে রেখে নগদ ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, একই চক্র সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের এক কসমেটিকস ব্যবসায়ীকেও একই কৌশলে ফাঁদে ফেলে নগদ টাকা আদায় করে এবং পরবর্তীতে আরও ৫ লাখ টাকা দাবিতে চাপ সৃষ্টি করে। ভুক্তভোগীকে মারধরের ঘটনাও ঘটে।

এছাড়া ২০২৩ সালে এক সাংবাদিককেও ফাঁদে ফেলে মারধর ও নগ্ন ভিডিও ধারণ করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালায় এই চক্র। এ ঘটনায়ও মামলা হয় এবং তারা কিছুদিন কারাভোগ করে।

পুলিশের দাবি, জেল থেকে বেরিয়ে চক্রটি পুনরায় সক্রিয় হয়ে বিভিন্ন এলাকায় বাসা পরিবর্তন করে অপরাধ চালিয়ে আসছিল। সর্বশেষ সদর থানার কাছাকাছি এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে গোপনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল তারা।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা রয়েছে। পুলিশ তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024