সাতক্ষীরায় এক ভয়াবহ ভূমিদস্যুতা, মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও এক বাংলাদেশি নাগরিককে ‘ভারতীয়’ আখ্যা দিয়ে আটক, কারাগারে প্রেরণ এবং তার জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন এনটিভির সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি এস এম জুলফিকার আলী জিন্নাহ।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মোকসুদার রশিদ নামে ওই ব্যক্তি খুলনা জেলার সোনাডাঙ্গা থানার পশ্চিম বানিয়াখামার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জন্মসূত্রে বাংলাদেশি এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট ও টিআইএন নম্বরসহ সকল বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। এরপরও একটি চক্র তাকে ‘ভারতীয় নাগরিক’ বলে অপপ্রচার চালিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে সাতক্ষীরা সদরের ভোমরা লক্ষীদাড়ী মৌজায় তার পৈতৃক ৩১ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয় একটি প্রভাবশালী মহল। জীবননাশের আশঙ্কায় তিনি সে সময় ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে জমি বিক্রির জন্য গত সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে পুনরায় হামলার শিকার হন। এ সময় জমির ক্রেতা সাংবাদিক জিন্নাহকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে সাংবাদিকের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং জমির মালিক মোকসুদারকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা চালায়।

এ ঘটনায় সাংবাদিক জিন্নাহ জানান, দলিল সম্পাদনের জন্য সন্ত্রাসীরা ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবি না মানায় তাদের উপর হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে সিন্ডিকেটটি পুলিশকে প্রভাবিত করে মোকসুদারকে ‘ভারতীয় নাগরিক’ হিসেবে চিহ্নিত করে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠায়।

এ ঘটনায় জিন্নাহ সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা (নং-১, তারিখ: ০১.০৪.২০২৬) দায়ের করেছেন। পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সিসিটিভিতে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এছাড়া জানা গেছে, ২০২৩ সালে একই চক্রের কাছে মোকসুদারকে নামমাত্র মূল্যে ৮৪ শতক জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়, যেখানে তাকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছিল। অথচ এখন স্বার্থের প্রয়োজনে তাকে ‘ভারতীয়’ বলে দাবি করা হচ্ছে—যা প্রশ্ন তুলেছে পুরো ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা আইনের শাসন ও মানবাধিকারের জন্য মারাত্মক হুমকি—যার দ্রুত ও কঠোর সমাধান জরুরি।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024