লাখাইয়ে বাড়ছে পানি,৬হেক্টর বোরো জমি পানির নিচে,আতংকে কৃষক। লাখাই উপজেলার ১নং লাখাই ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। ইতিমধ্যে উপজেলার কয়েকটি নিম্নাঞ্চলের বোরো জমি পানিতে তলিয়ে গেছে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, প্রায় ৬ হেক্টর জমির বোরো ফসল পানির নিচে চলে গেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, এ বিষয়ে তারা কোনো তথ্য পায়নি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লাখাই উপজেলায় ১১ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এটি প্রায় ৭০ হেক্টর বেশি। এসব জমি থেকে ৫ লাখ ২২ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখনো অধিকাংশ এলাকায় ধান পরিপক্ক না হওয়ায় পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়নি। এদিকে উন্নত জাতের বীজের অভাব ও পোকার আক্রমণে বোরো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আগাম বন্যার আশঙ্কা করছেন ভাটি অঞ্চলের কৃষকেরা। পাশের সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলায় আগাম বন্যায় বোরো ফসল নষ্ট হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় লাখাইয়ের কৃষকদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শিবপুর গ্রামের কৃষক আক্কল আলী বলেন, হঠাৎ জমিতে পানি ঢুকে পড়ায় কাঁচা ও আধাপাকা ধান কেটে ফেলতে হয়েছে। একদিকে ধান কাটার শ্রমিকের অভাব, অন্যদিকে রোজার কারণে অনেকেই কাজ করতে চান না। পরিবার নিয়ে এবার কী খাবেন, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন। স্বজন গ্রামের কৃষক আনজব আলী বলেন, তিনি ১৮ কানি জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে পাঁচ কানি জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। জমির ধান এখনো পুরোপুরি পাকেনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদুল হাসান বলেন, ধলেশ্বরী নদীতে গত কয়েক দিন ধরে পানি বাড়ছে। লাখাই ইউনিয়নের শিবপুর ও স্বজনগ্রাম এলাকায় প্রায় ৬ হেক্টর বোরো জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব জমি নদীর পাড়ের নিম্ন এলাকায় হওয়ায় আগে তলিয়ে গেছে। উজানে পানি বাড়তে থাকলে উপজেলার হাওর এলাকার বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024