|
Date: 2026-04-12 12:33:27 |
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষার মান যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে বলে ইউনেস্কো প্রকাশিত বিশ্ব শিক্ষা পরিসংখ্যানে এ চিত্র ফুটে উঠেছে।
ইউনেস্কোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন বা প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হারে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় সবার পেছনে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। যেখানে ভারত, পাকিস্তান কিংবা ভুটানের মতো দেশগুলো মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিত করতে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে শিক্ষকদের অপ্রতুল প্রশিক্ষণ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। প্রায় ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হওয়া সত্ত্বেও, শিক্ষকদের পেশাদার দক্ষতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত না করতে পারা দেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মাধ্যমিক স্তরে গড়ে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার মাত্র ৫৫ শতাংশ। ইউনেস্কো এ হার নির্ধারণে দুটি মানদণ্ড বিবেচনা করেছে—প্রথমত, শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট স্তরে পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেয়েছেন কিনা এবং দ্বিতীয়ত, তাদের সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা সে স্তরের জন্য উপযুক্ত কিনা। এ মানদণ্ড অনুযায়ী দেখা যায়, বাংলাদেশে নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ দুই স্তরেই দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি স্পষ্ট।
অন্যদিকে এ সূচকে সাতটি দেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মালদ্বীপ। দেশটিতে নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে ন্যূনতম যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশ, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৯৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং সার্বিকভাবে মাধ্যমিক স্তরে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ, যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি।
দেশে শিক্ষার মান দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নবিদ্ধ, যার অন্যতম প্রধান কারণ দক্ষ শিক্ষকের অভাব। এ সংকটের পেছনে মূলত দুটি কারণ বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। প্রথমত, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব। অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিক বিবেচনা, স্বজনপ্রীতি কিংবা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে যখন বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হতো, তখন এ ধরনের অনিয়ম বেশি দেখা গেছে। এমনকি ভুয়া সনদ ব্যবহার করেও শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
দ্বিতীয়ত, বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। অনেক সময় সরকার প্রশিক্ষণের জন্য বিদ্যালয়গুলোর কাছে শিক্ষকদের তালিকা চাইলেও প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না পাঠিয়ে স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে নাম পাঠিয়েছে। ফলে দেখা গেছে, গণিতের প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন বাংলা বা ধর্মীয় শিক্ষার শিক্ষক। ফলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কার্যকর না হয়ে অনেক ক্ষেত্রেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরও শিক্ষকরা তা পাঠদানে প্রয়োগ করতে পারছেন না।
© Deshchitro 2024