মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম 

বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক। প্রতি বছর এই দিনটি নতুন আশার বার্তা নিয়ে আসে, পুরনো সব গ্লানি ভুলে নতুন করে শুরু করার অনুপ্রেরণা জোগায়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাঙালিরা আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করে। ঐতিহাসিকভাবে পহেলা বৈশাখের সূচনা মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে। কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়। সেই থেকেই ধীরে ধীরে এটি বাঙালির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। সময়ের পরিক্রমায় এই দিনটি শুধু অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি পরিণত হয়েছে এক বিশাল সাংস্কৃতিক উৎসবে। পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। রঙিন মুখোশ, বিভিন্ন প্রতীকী চিত্র ও লোকজ উপকরণের সমন্বয়ে সাজানো এই শোভাযাত্রা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। এছাড়া গ্রামবাংলায় বৈশাখী মেলা, নাগরদোলা, পালাগান ও নানা লোকজ আয়োজন উৎসবকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।

খাবারের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ ঐতিহ্য। পান্তা ভাত, ইলিশ মাছ, ভর্তা এসব খাবার যেন পহেলা বৈশাখের অবিচ্ছেদ্য অংশ। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত মানুষজনের উপস্থিতি পুরো পরিবেশকে করে তোলে উৎসবমুখর ও বর্ণিল। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের কিছু পরিবর্তন এলেও এর মূল চেতনা অটুট রয়েছে। আজও পহেলা বৈশাখ বাঙালির ঐক্য, সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। নতুন বছরের এই প্রথম দিনে মানুষ প্রতিজ্ঞা করে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার।

সবশেষে বলা যায়, পহেলা বৈশাখ কেবল একটি দিন নয় এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতিফলন। নতুন বছরের সূচনায় এই উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যত বাধাই আসুক না কেন, নতুন করে শুরু করার সাহসই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।




প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024