|
Date: 2026-04-16 17:27:32 |
যশোরে শ্যালিকাকাণ্ডে অভিযুক্ত ডা. রাফসান জানি কর্তৃক নিজের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘চাঁদাবাজি’ মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি (বিএমএসএস)। সংগঠনটি এই মামলাকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।বিএমএসএস-এর চেয়ারম্যান মো. সুমন সরদার এক বিবৃতিতে বলেন, "যখনই কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির অপকর্ম সংবাদে আসে, তখনই সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে চাঁদাবাজির ট্যাগ লাগানো হয়। আমরা ডা. রাফসানের অপকর্মের বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চাই। অন্যথায় সারাদেশে বিএমএসএস রাজপথে নামবে।"
নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডা. রাফসান জানি কোতয়ালী আমলী আদালতে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৩৮৯/৩৪ ধারায় মামলা করেছেন। তবে মামলার বিবরণ ও বাস্তবতার মধ্যে একাধিক গুরুতর অমিল পাওয়া গেছে: ৮ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত কথিত হুমকি দেওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে অনেক পরে মামলা করা হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মামলায় দাবি করা হয়েছে সাংবাদিকদের প্ররোচনায় শ্যালিকা মামলা করেছেন। অথচ ভুক্তভোগী শ্যালিকা নিজেই সংবাদ সম্মেলন করে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এজাহারে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ একবার ৩০ হাজার এবং অন্য স্থানে ২০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এই অস্বাভাবিক তারতম্য মামলাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির কোনো অডিও, ভিডিও বা লেনদেনের তথ্য ডা. রাফসান আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি।
মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিকরা হলেন— জাতীয় দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার আসিফ আকবর সেতু, ডিবিসি নিউজের সাকিরুল কবীর রিটন, এশিয়ান টিভির হাসিবুর রহমান শামীম, নাগরিক ভাবনার জাকির হোসেন, অনলাইন কলম কথার সম্পাদক সুমন চক্রবর্তী, এসএম তাজাম্মুল, আব্দুল হাই, নুর ইসলাম নাহিদ, তহিদুল ইসলাম ও দৈনিক অভয়নগরের ইসমাইল হোসেন।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভুক্তভোগী নারী নিজেই থানায় গিয়ে অভিযোগ করার পর সাংবাদিকরা তা প্রকাশ করেছেন, যা পেশাগত দায়িত্বের অংশ। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই সাংবাদিকদের এই হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন থাকলেও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
© Deshchitro 2024