বানিয়াচংয়ে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। এছাড়া দিন ও রাত মিলে প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। জানা গেছে, চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বানিয়াচং উপজেলায় লোডশেডিং করা হচ্ছে। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে লোডশেডিং করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উপজেলার জনগনের। হঠাৎ এই লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। বানিয়াচং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বলছে, সারা উপজেলায় আমাদের দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৮ মেগাওয়াট। কিন্তু আমাদের দেয়া হচ্ছে মাত্র ৯-১০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। এদিকে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিদ্যুৎ নির্ভর স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদানও ব্যাহত হচ্ছে। এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমন মিয়া বলেন, একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভয়াবহ বিদ্যুৎ লোডশেডিং এই দুইটা মিলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিন পরেই আমাদের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে এর মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিং শুরু হয়েছে। সকাল, বিকাল ও রাতে যখনই পড়তে বসি তখনই বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে আমার মতো পরীক্ষার্থীদের কয়েকদিন আগেই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তা ভাবিনি। গ্যানিংগঞ্জ বাজারের চৌধুরী টেলিকমের স্বত্বাধিকারী রুমন চৌধুরী বলেন, আমরা সন্ধ্যা ৭ টায় দোকান বন্ধ করতে হয়। আমার দোকান বিদ্যুৎ ছাড়া কোনো কাজ করা যায় না। ২/৩ জন কর্মচারীকে প্রতিদিন টাকা দিতে হয় তবে কাজ কিছুই হয় না। দিন-রাত সমানভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। বানিয়াচং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ গণমাধ্যমকে জানান, আমরা চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাচ্ছি। আমাদের প্রতিদিন প্রয়োজন ১৮ মেগাওয়াট সেখানে আমরা পাচ্ছি ৯-১০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি আমরা। আশা করি দ্রুত এই সমস্যা সমাধান হবে।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024