প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোর জেলা সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং জনসভায় অংশগ্রহণের কর্মসূচি রয়েছে।


রোববার (২৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


সফরসূচি অনুযায়ী, সোমবার সকালে গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে আকাশপথে যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি। যশোরে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শার্শা উপজেলার উলশী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই স্থানে আয়োজিত পথসভা বা সুধী সমাবেশেও যোগ দেবেন তিনি।


শার্শা থেকে ফিরে যশোর সার্কিট হাউসে স্বল্প বিরতির পর বিকেলে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।


দিনের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে রাতে রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।


প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে যশোরবাসীর মধ্যে এখন উৎসবের আমেজ এবং আকাশচুম্বী প্রত্যাশা। পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি বলেন, ‘৭০-এর দশকে উত্তর শার্শা এলাকার পাঁচটি বড় বিলের পানি আগে ঠিকভাবে নিষ্কাশন হতো না। এর ফলে হাজার হাজার বিঘা জমি অনাবাদি পড়ে থাকত এবং বেতনা নদীর পানি বের হতে না পারায় প্রায়ই ফসলের ক্ষতি হতো। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে চরম অভাব-অনটন দেখা দিত। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর উলাসী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত বেতনা নদীর সঙ্গে সংযোগ করে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই উদ্যোগের ফলে পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হয় এবং খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে কৃষকরা উপকৃত হতে থাকেন। ফলে এ অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটে।'


তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন খালটি সংস্কার না করায় অনেক অংশ ভরাট হয়ে গেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর খাল খননের উদ্যোগ নেন। তারই অংশ হিসেবে উলাসী খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি এর মাধ্যমে মৃতপ্রায় খালটি প্রাণ ফিরে পাবে।’


যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘কেবল খাল খনন নয়, এই সফরে প্রধানমন্ত্রী যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন ও যশোর ঈদগাহে জেলা বিএনপির জনসভায় ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভিতরেও উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। এ সফর সফল করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার আগমনের মধ্য দিয়ে যশোরের উন্নয়নের চাকা সচল হবে।’


বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর শাখার সাধারণ সম্পাদক তসলিম উর রহমান বলেন, ‘যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাশের ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা জেলাসহ দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। কিন্তু হাসপাতালটিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। চিকিৎসা সেবা ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। করোনাকালীন এখানে স্থানীয়ভাবে ১০ শয্যার অপূর্ণাঙ্গ আইসিইউ চালু করা হয়। হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ’র সমস্ত যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন পড়ে আছে। এর প্রধান কারণ আইসিইউ পরিচালনার জন্য কোনো জনবল নিয়োগ করা হয়নি। ফলে চিকিৎসা সুবিধা থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে, হাসপাতালে একটি কিডনি ডায়ালোসিস সেন্টার অনুমোদন দেওয়া হলেও তা চালু করার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে জেলার ৩১ লাখ মানুষসহ পাশের চার জেলার ৭০ লক্ষাধিক মানুষ আধুনিক চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত।’


যশোর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির নেতা অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত যশোর বাংলাদেশের কৃষি ফসল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ধান, পাট, তেলবীজ, খেজুরগুড়ের পাশাপাশি সবজি উৎপাদনে যশোর অনন্য। ঝিকরগাছার গদখালির বাণিজ্যিক ফুল উৎপাদন দেশের ৭০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। চাঁচড়ার রেণুপোনা উৎপাদন দেশব্যাপী মৎস্যচাষিদের কাছে সুপরিচিত। গবাদি পশুপালন ও পোল্ট্রি শিল্পের মাধ্যমে আমিষের চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। যশোর জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সময়ের দাবি। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি বিপ্লবের সূতিকাগার হিসেবে ভূমিকা রাখবে।’

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024