লাখাইয়ে বোরোধান হারিয়ে কৃষক দিশেহারা,ঋণ নিয়ে কৃষকের আহাজারী। লাখাইয়ে কয়েকদিনের অব্যাহত ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে বোরো ধানের ফসল। হাওরের পাশাপাশি অন্য এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ফসল ঘরে তুলতে না পাড়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষকেরা জানান, অব্যাহত বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে আগাম বন্যা হয়েছে অনেক এলাকায়। এতে হাওরের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাকা বোরো ধান ঘরে তুলতে না পাড়ায় অনেক কৃষক পাগল হয়ে গেছেন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে লাখাই উপজেলায় ১১ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৭০ হেক্টর বেশি। সরেজমিনে লাখাই উপজেলার সাতবিলা হাওরে দেখা যায় অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরে প্রায় হাজার হেক্টর বোরো ধান তলিয়ে গেছে। সাতবিলা হাওরের কৃষক আরিফ মিয়া বলেন, ধান কাটার সময় হাওরের সব ধান তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক ঋণ করে ধান চাষ করছেন। এসব কৃষক কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন। হঠাৎ বৃষ্টিতে আমাদের এতো ক্ষতি হবে বুঝতে পারিনি। ৫৭ বছরের কৃষাণী মনোয়ারা বলেন,বন্যার পানি আমাদের সব নিয়া গেল,আর কিছু রইলো না,জীবন কিভাবে কাটবে একমাত্র আল্লাহই ভাল জানে,ঋণ করে ৫কেয়ার ক্ষেত করেছিলাম, পানির তলে সব চলে গিয়াছিলো, গত ২দিন আগে ১হাজার টাকা জনপ্রতি দিনমুজরী দিয়ে কিছু ধান তুলে আনছি, কিন্তু শুনলাম ৬০০টাকা মন ধরে বিক্রি হচ্ছে, খবরটা শুনে আকাশটা মাথায় পড়লো,আমাদের আর উপায় নাই। আরেক কৃষক আজদু মিয়া বলেন, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণ করে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। আজ সবকিছু ডুবে গেছে। আমার ভাগ্যটাই খারাপ। কৃষাণী ছালেকা বেগম বলেন,ঋণ করে তিন কেয়ার বোরোধান চাষ করেছিলাম, বন্ন্যায় নিয়া গেল মাথা উঁচু ঋণ,আর কয়দিন পরে একমাত্র ছেলের বউয়ের সিজার করতে হবে, টাকা নেই, আল্লাহই জানে আমাদের কি উপায় হবে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ শাহাদুল হাসান বলেন এবারের ভারী বর্ষনের ফলে মাঝারি অঞ্চলের ৬০-৭০ হেক্টর জমির বোরোধান এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে। তবে আশাকরা যায় আবহাওয়ার বৈরী আচরণের পরিবর্তন হবে এবং বৃষ্টি পাত নতুন করে না হলে পানি নেমে যাবে।ফসলের তেমব ক্ষতি হবে না।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024