|
Date: 2026-05-05 10:23:50 |
গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে প্রকৃতির তপ্ত নিশ্বাস ছাপিয়ে এখন সুসংবাদ দিচ্ছে লিচু। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লিচু বাগানগুলোতে এখন অন্যরকম দৃশ্য। গাছে গাছে পাতার আড়ালে ঝুলছে থোকায় থোকায় লালচে আভার লিচু। আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা, এরপরই এই রসালো ফলের মিষ্টি গন্ধে মউ মউ করবে চারপাশ।
লিচু পাকতে শুরু করার এই সন্ধিক্ষণে বাগান মালিক ও চাষিদের চোখে এখন ঘুম নেই। প্রতিটি বাগানে চলছে নিবিড় পরিচর্যা। ফলের আকার যেন নষ্ট না হয় এবং পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়, সেজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে জৈব বালাইনাশক। অনেক বাগান মালিক ইতিমধ্যেই বাদুড় ও পাখির উপদ্রব থেকে ফল বাঁচাতে বিশেষ নেট দিয়ে পুরো গাছ মুড়িয়ে দিয়েছেন। কোথাও কোথাও রাত জেগে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে টিনের শব্দ আর জোরালো আলোতে পাহারা দিচ্ছেন শ্রমিকরা।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এবার শীতের সময়কাল দীর্ঘ হওয়ায় লিচুর মুকুল এসেছিল আশাতীত। বৈশাখের গরমের পর সাম্প্রতিক হালকা বৃষ্টি লিচুর গুটি বড় হতে সাহায্য করেছে। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাত ‘বোম্বাই’, ‘মাদ্রাজ’, ‘চায়না-৩’ এবং ‘বেদানা’ লিচুর ফলন এবার অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। শুরুতে দেশি লিচু বাজারে আসলেও জুনের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ উন্নত জাতের লিচুগুলো দেশের বড় বড় বাজার দখল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
লিচুর এই মৌসুমি ফলন শুধু মানুষের স্বাদের তৃপ্তি মেটায় না, বরং এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। বাগান কেনাবেচা থেকে শুরু করে ঝুড়ি তৈরি, প্যাকিং এবং পরিবহনের কাজে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান তৈরি হয়। দেশের উত্তরের জেলাগুলো থেকে বিশেষ ট্রাকে করে লিচু রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিবহন ব্যবসায়ীরাও তাদের প্রস্তুতি গুছিয়ে নিচ্ছেন।
ভোক্তাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবার কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রকার ক্ষতিকর রাসায়নিক বা কার্বাইড ছাড়াই যেন প্রাকৃতিকভাবে ফল পাকানো হয়, সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, লিচুর গায়ের রঙ যখন কালচে লাল বা উজ্জ্বল লাল হবে এবং দানার অংশটি সমান হয়ে আসবে, তখনই এটি সংগ্রহের উপযুক্ত সময়।লিচুর এই আগমনি বার্তা যেন গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে প্রশান্তির এক ছোঁয়া। কয়েকদিনের মধ্যেই রঙ ও স্বাদের নেশায় মাতবে সারাদেশের ফলপ্রেমীরা।
© Deshchitro 2024