যশোরের মাটি ও মানুষের প্রিয় মুখ, সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোছাঃ সাবিরা সুলতানা মুন্নি ঢাকা থেকে ফিরেছেন আপন জনপদে। তবে এই ফেরা কেবলই আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি ছিল এক আবেগঘন মিলনমেলা আর শিকড়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।

বুধবার (০৬ মে) সকালের সূর্যটা যখন মধ্যগগনে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই যশোর বিমানবন্দরের আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে দলীয় নেতাকর্মীদের গগনবিদারী স্লোগানে। শত শত মোটরসাইকেলের বহর আর ফুলের পাপড়িতে ঢাকা পড়ে যায় রাজপথ। ঝিকরগাছা ও চৌগাছার প্রতিটি কোণ থেকে আসা নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস বলে দিচ্ছিল—তাঁদের প্রিয় নেত্রী এখন জনসেবার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে পাশেই আছেন।

বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই এমপি মুন্নি ছুটে যান যশোর কারবালা কবরস্থানে। সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য মরহুম তরিকুল ইসলামের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কিছুকাল স্তব্ধ হয়ে থাকেন তিনি। ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতের মাধ্যমে স্মরণ করেন এই রাজনৈতিক অভিভাবককে।

এরপর তাঁর গন্তব্য ছিল আরও আবেগময়—ঝিকরগাছায় নিজ বাসভবন এলাকা। সেখানে তিনি তাঁর জীবনসঙ্গী, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহীদ নাজমুল ইসলামের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে চোখের জলে দোয়া করেন। একে একে তিনি শহীদ ওলিয়ার রহমান, মরহুম জালাল উদ্দিন আহমেদ এবং মরহুম আব্দুস সামাদ বড় সাহেবের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

কবর জিয়ারত শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি তাঁর হৃদয়ের কথাগুলো তুলে ধরেন। এমপি সাবিরা সুলতানা মুন্নি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর এই পদমর্যাদা কেবলই অলংকার নয়, বরং এটি ঝিকরগাছা ও চৌগাছার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি হাতিয়ার। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজেকে উৎসর্গ করার প্রতিশ্রুতি তিনি পুনরায় ব্যক্ত করেন।

এই আবেগঘন সফরে তাঁর ছায়াসঙ্গী হিসেবে ছিলেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইউনুস আলী দফাদার এবং পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা আউলিয়ারসহ তৃণমূলের অসংখ্য নিবেদিতপ্রাণ কর্মী।এই আয়োজনটি ছিল মূলত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আর আগামীর উন্নয়ন যাত্রার এক সেতুবন্ধন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024