সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা বাজারসংলগ্ন নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ রক্ষা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত নকশা অনুসরণ না করে কাজ করার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাজারসংলগ্ন মরিচ্চাপ নদী পুনঃখনন করা হয়। পুনঃখননের পর নদীর স্রোতের তীব্রতায় গোয়ালডাঙ্গা বাজারসংলগ্ন বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। ধীরে ধীরে সেই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় বাজারের অসংখ্য দোকানপাট, বসতঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ে।

গোয়ালডাঙ্গা বাজার এলাকাটির অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা পরিচালিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষও এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল।

বাজার ও আশপাশের এলাকা রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষা কাজ শুরু করে। খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন অ্যান্ড কোং কাজটি বাস্তবায়ন করছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী পাইলিং করে তার ভেতরে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্থানে পাইলিং ছাড়াই সরাসরি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ফুট এলাকায় এভাবে কাজ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয় সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী শরিফুজ্জামান মুকুল শিকারী, ব্যবসায়ী বকুল শিকারী, সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম শরীফ, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ হোসেন ও যুগ্ম সম্পাদক লিংকন আসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান। পরে তাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাউবোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন।

কাজের সাইটে দায়িত্বে থাকা মো. ঈসার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন, পাইলিংয়ের ভেতরেই কাজ হওয়ার কথা। তবে পাইলিং ছাড়া কাজ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব না দিয়ে বলেন, “আমি বাইরে আছি, দেখছি।”

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসডিই) রাশিদুল ইসলাম বলেন, “আমি কাজ বুঝিয়ে দিয়েছি। পাইলিংয়ের ভেতরে জিও ব্যাগ ফেলতে হবে। নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, “আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরে স্থানীয় উপস্থিত ব্যক্তিরা ইউএনওর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ বন্ধ করে দেন এবং শ্রমিকদের পাইলিংয়ের বাইরে কোনো কাজ না করার জন্য সতর্ক করেন।


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024