জয়পুরহাট শহরের নতুনহাট এলাকায় এক চিকিৎসকের জমি দখলের চেষ্টা ও অভিনব কায়দায় ২০লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে শরিফুল ইসলাম ও সুলতান ফকির নামের ২জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 
 
শনিবার (০৯ মে) সকালে শহরের নতুনহাট এলাকা থেকে সদর থানা পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, শহরের নতুনহাট সরদার পাড়া এলাকার সজিব উদ্দীনের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৫৫) ও একই এলাকার মৃত ছলিম উদ্দীনের ছেলে সুলতান ফকির (৬০)।
 
মামলার বিবরণে জানা যায়, জয়পুরহাট পৌর সদরের নতুনহাট সরদারপাড়া এলাকার মৃত সরদার মোবারক আলীর ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারভুক্ত ডাঃ মো. রফিকুল মোবারক রুবেল দীর্ঘদিন ধরে ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত ওয়ারিশি জমি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি ওই জমিতে নির্মাণ কাজ শুরু করতে গেলে গ্রেপ্তারকৃতরা তাদের লোকজনসহ অভিনব কায়দায় ২০ লাখ টকা চাঁদা দাবি করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। অভিযুক্তরা দাবি করে যে পূর্বে কম দামে জমি বিক্রি করা হয়েছিল, বর্তমানে জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় পুনরায় ২০ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে জমিতে কাজ করতে দেওয়া হবে না এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। গত ২৮ এপ্রিল সকালে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময়  তারা ইট দিয়ে ঘেড়াও করা জমির গেট ভাঙচুর করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা দাবি করে বলে জানান ভুক্তভোগী ডাঃ মো. রফিকুল মোবারক রুবেল।
 
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ডাঃ মো. রফিকুল মোবারক রুবেল বাদি হয়ে গ্রেপ্তারকৃতরাসহ অজ্ঞাতনামা মোট ১৪/১৫ জনের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করলে, থানার অফিসার ইনচার্জ নূরে আলম সিদ্দিকী মামলাটি রেকর্ড করেন। 
 
উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মকলেছুর রহমান অভিযান চালিয়ে ২জনকে গ্রেপ্তার করেন এবং তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করেন। 
 

জয়পুরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ নূরে আলম সিদ্দিকী জনান, সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায় নিরিহ জমির মালিকরা ঘড়-বাড়ি করতে গিয়ে চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। অনেক আগে জমি বিক্রি করার পরও তাদের ওয়ারিশরা নতুনকরে টাকা আদায়ের ফন্দি করে এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে। ভবিষৎতে কারো সাথে এমন ঘটনা ঘটলে থানায় অভিযোগ করলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমান সরাকারের নির্দেশনায় চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024