অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালনের বিপরীতে অধিকাল ভাতা (ওভারটাইম) চালুর দাবিতে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করেছেন বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্মচারী কর্তৃপক্ষের পক্ষে গঠিত দাবি আদায় পরিষদের নেতাকর্মীরা। রবিবার (১০ মে) সকালে ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। পরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার কর্মবিরতিও পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত অফিস সময়ের বাইরেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই তারা তাদের ন্যায্য অধিকাল ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা দাবি করেন, বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের পূর্ববর্তী অফিস আদেশ, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত এবং শ্রম আইনে অতিরিক্ত সময় কাজের বিপরীতে ভাতা প্রদানের সুস্পষ্ট বিধান থাকলেও তা বাস্তবে কার্যকর করা হচ্ছে না।

বক্তারা জানান, ২০০৫ সালের ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় ট্রাফিক পরিদর্শক ও ওয়্যারহাউজ সুপারদের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অধিকাল ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। এছাড়া ২০১২ সালের ৫ আগস্ট জারি করা এক অফিস আদেশে স্থলবন্দরসমূহে কর্মরত কর্মচারীদের সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা এবং মাসে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অধিকাল ভাতা প্রদানের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি দেওয়া হয়। ওই আদেশে প্রকৃত দায়িত্ব ও কাজের ভিত্তিতে এ ভাতা প্রদানের নির্দেশনা ছিল বলেও উল্লেখ করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ভোমরা স্থলবন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরগুলোতে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম সচল রাখতে কর্মচারীদের প্রায়ই নির্ধারিত অফিস সময়ের বাইরে কাজ করতে হয়। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, পণ্য খালাস, কম্পিউটার অপারেশন ও গুদাম ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত কর্মচারীরা অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন না করলে বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

তারা অভিযোগ করেন, শ্রম আইনে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা নির্ধারণ থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় কাজ করানোর সুযোগ রয়েছে, তবে সে ক্ষেত্রে যথাযথ অধিকাল ভাতা, বিশ্রাম এবং শ্রমিকের সম্মতি নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে স্থলবন্দর কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এসব নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।

কর্মসূচিতে অংশ নেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ ফিদা হাসান, মোঃ আসাদুজ্জামান, মোহাম্মদ ওসমান গনি ভূঁইয়া, মোঃ মানিকুর রহমান, মোঃ নাজমুল আহসান, ট্রাফিক পরিদর্শক মোঃ সোহেল সোনার এবং কম্পিউটার অপারেটর মোঃ গোলাম মোস্তফাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মানববন্ধন শেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের এ যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024