|
Date: 2026-05-11 20:16:58 |
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব মন্ত্রণালয় নিজেদের সক্ষমতার শতভাগ চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে বৃষ্টির সঙ্কা থাকায় এবারের ঈদযাত্রা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ ঈদযাত্রা নিয়ে বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান তিনি।
সেতুমন্ত্রী বলেন, এবার আমরা গার্মেন্টস ছুটির বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছি। পোশাকশ্রমিকদের তিন থেকে চার দিনে ধাপে ধাপে ছুটি দেয়ার দাবি জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন সেটি করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, গতবার বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সঙ্গে তিন ধাপে গার্মেন্টস ছুটি দেয়ার বিষয়ে কথা হয়েছিল। কিন্তু সেটি সম্ভব হয়নি, শেষদিনে এসে চাপ পড়েছিল। ফলে যেদিন গার্মেন্টস ছুটি হয় ওইদিন গাজীপুরসহ এর আশপাশের এলাকায় অন্তত ১০ থেকে ১৫ লাখ যাত্রী সমাগম হয়েছিল।
ঈদ ঘিরে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, ঈদের সময় যাত্রীরা ছুটির পরেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাড়ি যেতে যান। তারা রাস্তার উপর চলে আসেন এবং বাস-ট্রাক-পিকআপ যে যানবাহন পান, সেটিতেই ওঠার চেষ্টা করেন। ফিটনেস থাকুক আর না থাকুক তারা ওঠার চেষ্টা করেন। বাসস্ট্যান্ডে এসে টিকিট কেটে নিয়ম মেনে গাড়ি উঠবেন এ রকম মানসিকতার মধ্যে থাকেন না, এভাবে তারা অভ্যস্ত না। ওইদিনটা আমাদের জন্য খুব চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়।
এর ফলে যানজট তৈরি হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যেকোনো যানবাহনে যখন যাত্রীরা চড়ে তখন ঝুঁকিও বাড়ে, দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। আবার এমন পরিস্থিতিতে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে যায়। এ সময় ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে এবার ৬৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে এবারের ঈদযাত্রা চ্যালেঞ্জিং হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার আমরা বৃষ্টির আশঙ্কা করছি। বৃষ্টি যদি হয় তখন কিন্তু যানজট হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়। সে সময় পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্যদের রাস্তায় রাখা যায় না। গতবার একদিনের ঝড়-বৃষ্টি আমাদের বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এবার বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় যানজট ব্যাপক হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে। বিশেষ করে পশুবাহী যানবাহনের জন্য এবার চ্যালেঞ্জ বেশি।
ইতোমধ্যে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে রাস্তার মাঝখান থেকে যাত্রী উঠলে ভাড়া তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তারপরও ঈদযাত্রা নিরাপদ-নির্বিঘ্ন করতে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
ফেরি পারাপার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব প্যাসেঞ্জার নামিয়ে বাস ফেরিতে উঠবে। বাস ফেরিতে ওঠার আগে ব্যারিকেড তৈরি করা হবে, যাত্রী না নামিয়ে ব্যারিকেড পার হতে পারবে না। এ সময় সদরঘাটে বোট-স্পিডবোট থেকে কেউ লঞ্চে উঠতে পারবে না বলেও জানান তিনি।
© Deshchitro 2024