কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিভিন্ন পত্রিকয়া ও ফেসবুকে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে ও চাঁদাবাজ মাদকাসক্ত কথিত সাংবাদিক নাহিদুল হাসান রুকনের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী খায়রুল ইসলাম বকুল। 

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের কুমরাকান্দা বাজারে তার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চত্বরে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন দক্ষিণ সালুয়া গ্রামের পিতা-মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম বকুল।

এ সময় তিনি লিখত বক্তব্য পাঠ করেন, কথিত সাংবাদিক নাহিদুল হাসান রুকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, গত ১ মে ২০১৬ তারিখে অনলাইন নিউজ ভার্সন বাংলাদেশের খবর, SUN NEWS 24X7 এবং দৈনিক বাংলাদেশ মিডিয়া-সহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে এবং ১০ মে THE DHAKA XPRESS-এ "সাংবাদিককে তুলে নিয়ে বিএনপি নেতার নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল" শিরোনামে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একই ধরনের সংবাদ ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এসব সংবাদে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। কথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী নাহিদুল হাসান রুকন মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করে এসব সংবাদ প্রকাশ করিযেছে।

খায়রুল ইসলাম বকুল তার লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, সংবাদে বলা হয়েছে, এলাকায় তেল মজুদ, কৃষিজমি ধ্বংস করে বালু উত্তোলন এবং মাদক ব্যবসার সংবাদ প্রকাশ করায় আমি ও আমার সহযোগীরা নাহিদুল হাসান রুকনকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছি। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এসব অভিযোগের কোনো সভ্যতা নেই। আমি কোনো অবৈধ তেল মজুদ, বালু উত্তোলন বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই।

প্রকৃতপক্ষে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জননেতা মো. শরীফুল আলম ভৈরব-কুলিয়ারচরকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করার পর এলাকায় বিভিন্ন অভিযোগ শুনতে পাই। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারি, নাহিদুল হাসান রুকন সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়, চাঁদাবাজি এবং মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

প্রায় দুই মাস আগে আমি তাকে ডুমরাকান্দা বাজারে ডেকে এনে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করি। এরপর থেকেই সে আমার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমাকে নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালায়।

গ্রায় দুই সপ্তাহ আগে স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হয়। সেখানে নাহিদুল হাসান রুকন নিজের ভুল স্বীকার করে। এসময় ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. মাসুম মিয়া তাকে আমার কাছে এনে ক্ষমা চাইতে বলেন। পরে উপস্থিত সবার অনুরোধে আমি তাকে ক্ষমা করে দেই। আমি বা আমার কোনো লোকজন তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করিনি। সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। ওই ঘটনার একটি অংশ গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের কেউ আমার বিরুদ্ধে এমন সংবাদ প্রকাশ করেননি, কারণ তারা প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে অবগত।

আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, কিছু সংবাদে বলা হয়েছে যে ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে আমি এলাকায় 'মাস্তানভন্ত্র' কায়েম করেছি এবং আমার খত্রছায়ায় চাঁদাবাজি, মাদক, জুয়া ও অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে। অথচ এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য, প্রমাণ বা অভিযোগকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করাও একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমি এসব বিষয়ের সুষ্ঠু ভদন্ত দাবি করছি।

নাহিদুল হাসান রুকন নিজেকে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের সাবেক নেতা ও জিয়ার সৈনিক পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি সাংবাদিক পরিচয়ে এলাকায় প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিভিন্ন তথ্য স্থানীয়ভাবে রযেছে। ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক তথা সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও তার ও তার পরিবারের আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যও স্থানীয়ভাবে আলোচিত।

সবশেষে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি এসব সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি নিকট জোর দাবি জানান। এবং সাংবাদিকদের প্রকৃত তথ্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার অনুরোধ জানান। 

এসময় তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নাহিদুল হাসান রুকন ডুমরাকান্দা বাজারের রড সিমেন্ট ও বালু ব্যবসায়ী ঠিকাদার মো. রতন মিয়ার ঠিকাদারি লাইসেন্স বাতিল করে দিবে এমন ভয় দেখিয়ে তার নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। বাজারের অপর ব্যবসায়ী হাজী আইন উদ্দিনের পক্ষে জায়গা সম্পত্তির বিষয় নিয়ে একটি সংবাদ করার কথা বলে তার নিকট থেকে প্রতারণা করে ৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে কোন সংবাদ করেনি সে। এছাড়া বাজারের মাতৃ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক লিটন কর এর নিকট থেকে মোবাইল কোর্টের ভয় দেখিয়ে ২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। অপর দিকে একটি খেলার আয়োজনের কথা বলে সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী দেলোয়ার হোসেনের নিকট থেকে ৩ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে ওই টাকা খেলা কমিটির নিকট বুঝিয়ে না দিয়ে তা আত্মসাৎ করে রুকন। যা ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে প্রমাণিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাদেকুর রহমান (মানবিক সাদেক), সদস্য মাহাবুব খান, সালুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. ফারুক মিয়া, সালুয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. রফিক মিয়া, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নূরুল হুদা বকুল, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মতি মিয়া, ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মাসুম মিয়া, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজু মিয়া, বিশিষ্ট পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মাসুদ রানা তালুকদার ও ৩নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছিন মিয়া সহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


এসময় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সমকাল প্রতিনিধি মোহাম্মদ হারুন চৌধুরী, নয়াদিগন্ত প্রতিনিধি মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, মাতৃভূমি ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি মো. মাইন উদ্দিন, প্রলয় প্রতিনিধি আলি হায়দার শাহিন, আমার সংবাদ প্রতিনিধি মোহাম্মদ আরীফুল ইসলাম, আমার দেশ প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী সোহেল, ইনকিলাব প্রতিনিধি আহমেদ সিফামো. সবুজ মিয়া, বাংলাদেশ বুলেটিন প্রতিনিধি মুছাম্মৎ রোকেয়া আক্তার, খোলা কাগজ প্রতিনিধি মোছা. শরীফুন্নেছা শুভ্রা, পূর্বকণ্ঠ নিজস্ব প্রতিবেদক শাহীন সুলতানা, পূর্বকণ্ঠ নিজস্ব প্রতিবেদক ইশতিয়াক আহমাদ শৈভিক ও গৃহকোণ প্রতিনিধি মো. সালাহ উদ্দিন সহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024