কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মোঃ হানিফ মিয়া (৩৪) নামে সমিল শ্রমিক ও কাঠ ব্যবসায়ী এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদ সংলগ্ন একটি পতিত জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত হানিফ মিয়া ফরিদপুর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকার টুকু মিয়া বাড়ির মোঃ ইব্রাহিমের ছেলে। তিনি পেশায় একজন সমিল শ্রমিক ও কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী লসকর মিয়ার ছেলে মোঃ জাকির হোসেন হানিফকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হানিফ তার স্ত্রী আয়েশার মোবাইল ফোনে কল করে বলেন, আমাকে বাঁচাও, জাকির হোসেনরা আমাকে মেরে ফেলবে। এরপর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত লসকর মিয়ার বাড়িতে ছুটে গেলেও বাড়ির সব গেট বন্ধ থাকায় বাড়ির ভিতরে ডুকতে পারেনি কেউ। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে হানিফকে খোঁজাখুঁজি করে লসকরের বাড়ির প্রায় দুইশত ফুট পূর্ব পাশে একটি পতিত ধানক্ষেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে কুলিয়ারচর থানা পুলিশকে খবর দিলে দ্রুত ঘটনা স্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

স্থানীয়রা দাবি করেন, এই ঘটনার পর লসকর মিয়া পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তবে অভিযুক্ত জাকির হোসেনসহ অন্যরা পালিয়ে যান। অভিযুক্ত জাকিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মাদকসহ একাধিক অপরাধের মামলাও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে উত্তেজিত জনতা লসকর মিয়ার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় বিল্ডিং ঘরের ভিতরে ও বাহিরে একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরতে দেখা যায়। এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করে বলেন, লসকরের ছেলে জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবাসার সাথে জড়িত। সে ফরিদপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় মাদক সরবরাহ করতেন। তার বিরুদ্ধে চুরি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। 

এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরীফ উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে  মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে নারীসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024