নেপালের দুর্গম পাহাড়ি পথে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ট্রেইল রেস Fishtail 100-এ ৫০ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে ১ম বাংলাদেশি ফিনিশার হয়ে ইতিহাস গড়েছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কৃতি সন্তান আমির উদ্দিন। সম্প্রতি নেপালের মনোমুগ্ধকর কিন্তু চ্যালেঞ্জিং অন্নপূর্ণা অঞ্চলে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দৌড়বিদরা অংশ নেন। প্রতিকূল আবহাওয়া, খাড়া পাহাড়ি পথ ও দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে আমির উদ্দিন অসাধারণ সাহসিকতা ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেন। ৫০ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে অংশ নিয়ে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফলভাবে রেস সম্পন্ন করেন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে প্রথম ফিনিশার হিসেবে গৌরব অর্জন করেন। ফিনিশিং টাইম: ১৩ ঘণ্টা ২৩ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড । তার এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ট্রেইল রানিংয়ের জন্য একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলা থেকেই আমির উদ্দিন ছিলেন ক্রীড়ামুখী। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তিনি নিজের চেষ্টায় গড়ে তুলেছেন দৌড়ানোর দক্ষতা। পাহাড়ি ট্রেইল রানের মতো কঠিন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে এ ধরনের সাফল্য অর্জন নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক। ট্রেইল রানার সাইফুল ইসলাম “আমির ভাই আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। পাহাড়ি ট্রেইল রেস এত কঠিন—সেখানে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ফিনিশার হওয়া সত্যিই অসাধারণ অর্জন।” ম্যারাথন দৌড়বিদ মাহিন আহমেদ জানান, “আমরা যারা লং ডিস্ট্যান্স রানিং করি, তারা জানি ৫০ কিলোমিটার ট্রেইল কতটা চ্যালেঞ্জিং। আমির উদ্দিন প্রমাণ করেছেন—ইচ্ছাশক্তি থাকলে সব সম্ভব।” অ্যাথলেট নাহিদ হাসান বলেন, “বাংলাদেশের ট্রেইল রানিং এখনো অনেক পিছিয়ে। আমির ভাইয়ের এই সাফল্য নতুনদের সাহস দেবে এই স্পোর্টসে আসতে।” স্পোর্টস ক্লাব সদস্য রাফি হোসেন জানান, “আমির উদ্দিন শুধু একজন রানার নন, তিনি আমাদের গর্ব। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।” যুব ক্রীড়াবিদ তানভীর রহমান বলেন “আমি নিজেও দৌড়াই। তার মতো একজনকে দেখে মনে হয়—আমরাও একদিন দেশের হয়ে কিছু করতে পারবো।” নারী অ্যাথলেটসাবিনা ইয়াসমিন জানান “বাংলাদেশের খেলাধুলায় এমন অর্জন খুব প্রয়োজন ছিল। আমির উদ্দিন দেখিয়ে দিয়েছেন—সুযোগ না থাকলেও সংগ্রাম করে এগিয়ে যাওয়া যায়।” প্রভাষক ইমতিয়াজ আহমেদ লিলু বলেন, আমির উদ্দিনের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। বিষয়টি নিয়ে আমির উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, “এই অর্জন শুধু আমার নয়, পুরো বাংলাদেশের। দেশের পতাকা বুকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দৌড়াতে পেরে আমি গর্বিত। ভবিষ্যতে আরও বড় প্রতিযোগিতায় দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই।” এদিকে তার এই সাফল্যে বানিয়াচংসহ পুরো হবিগঞ্জ জেলায় আনন্দের বন্যা বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করছেন, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমির উদ্দিন ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবেন দেশের জন্য
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024