|
Date: 2023-02-06 12:14:50 |
তুরস্ক এবং সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। ইতোমধ্যেই ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে মৃতের সংখ্যা।এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আছেন বহু মানুষ।
এরই মধ্যে আবারও ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৭ দশমিক ৫। সোমবার ভোরে পরপর দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানার ১৩ ঘন্টা পর তৃতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
এর আগে প্রথমটি হয়েছে ভোর ৪ টা ১৭ মিনিটে এবং সেটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮; দ্বিতীয়টি ঘটে তার ১৫ মিনিট পর। সেটি মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭।
এদিকে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, তার দেশে ভূমিকম্পে ৯১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৮৩ জন।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবর অনুযায়ী, ভূমিকম্পে কমপক্ষে ৫৬০ জনের প্রাণহানি হয়েছে, যাদের বেশির ভাগ আলেপ্পো, হামা, লাতাকিয়া ও তারতুস অঞ্চলের।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, আলেপ্পো, হামা, লাতাকিয়া ও তারতুসে ৬৪৮ জন আহত হয়েছে।
অন্যদিকে হোয়াইট হেলমেটস জানিয়েছে, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আহত হয়েছে ৩৪০ জন।
‘হোয়াইট হেলেমেটস’ হিসেবে পরিচিত সিরিয়া সিভিল ডিফেন্স নামের একটি গোষ্ঠী জানিয়েছে, সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কমপক্ষে ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের বর্ণনা দিয়েছেন বেঁচে ফেরা এক তুর্কি তরুণী। তার নাম ওজগুল কনাকচি। তুরস্কের মালত্য শহরের বাসিন্দা ২৫ বছরের ওজগুল বলেন, চোখের সামনে ভবনের জানালাগুলো সশব্দে চূর্ণবিচূর্ণ হতে দেখেছি।
এদিকে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে সোমবার স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১০ হাজারে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস।
সংস্থাটির অনুমান অনুযায়ী, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার থেকে ১০ হাজার হওয়ার শঙ্কা ৪৭ শতাংশ। ১০০ থেকে ১ হাজার হওয়ার শঙ্কা ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে কম্পনে প্রাণহানি ১০ হাজার থেকে ১ লাখ হওয়ার শঙ্কা ২০ শতাংশ।
ইউএসজিএস বলেছে, ভূমিকম্পে তুরস্কের ১০০ কোটি থেকে ১ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হতে পারে, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশের সমান।
সীমান্তের উভয় পাশের একাধিক শহরে বিধ্বস্ত ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নীচে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধানে নেমেছেন স্থানীয় উদ্ধারকর্মী ও বাসিন্দারা। তুরস্কের দিকে এই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় শহর রয়েছে। এসব এলাকায় লক্ষাধিক সিরীয় শরণার্থীর আবাসস্থল।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান টুইটারে বলেছেন, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। আশা করছি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কম ক্ষতিসহ এই দুর্যোগটি একসাথে কাটিয়ে উঠব।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সোয়লু ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে প্রবেশ না করার জন্য বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করা আমাদের প্রথম কাজ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এক বিবৃতি অনুযায়ী, পর পর দু’টি ভূমিকম্প হয়েছে তুরস্কে। প্রথমটি হয়েছে ভোর ৪ টা ১৭ মিনিটে এবং সেটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮; দ্বিতীয়টি ঘটে তার ১৫ মিনিট পর। সেটি মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ খারমানমারাসের গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে ভূপৃষ্ঠের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্প দু’টির উৎপত্তিস্থল। তুরস্ক ছাড়াও সিরিয়া, লেবানন ও সাইপ্রাসে কম্পন অনুভূত হয়েছে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এএফপি।
পার্শ্ববর্তী দেশ সিরিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গাজিয়ানতেপ তুরস্কের অন্যতম শিল্পোৎপাদন কেন্দ্র নামে পরিচিত। এই শহরটি ও তার আশপাশের এলাকায় বেশ কিছু শিল্প কারখানা গড়ে ওঠায় তুরস্কের অন্যতম জনবসতিপূর্ণ শহর এই গাজিয়ানতেপ। সিরিয়ার সীমান্তবর্তী হওয়ায় গাজিয়ানতেপে অনেক সিরীয় শরণার্থীও আছেন।
© Deshchitro 2024