|
Date: 2026-05-24 15:32:08 |
পড়াশোনা করানো আর নিজের সন্তানদের দেখভালের নামে শ্যালিকাকে নিজের কাছে নিয়ে এসেছিলেন দুলাভাই। কিন্তু সেই আশ্রয়ের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এক ভয়ঙ্কর রূপ। আস্থার সুযোগ নিয়ে শ্যালিকাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং সবশেষে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাসে আটকে রাখার অভিযোগে অবশেষে পুলিশের খাঁচায় বন্দী হয়েছেন যশোরের মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফসান জানি।
শনিবার রাতে যশোর শহরের উপশহর এলাকার নিজ বাসভবন থেকে মণিরামপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত প্রায় তিন বছর আগে। ভালো পরিবেশে পড়াশোনা এবং সন্তানদের দেখভালের অযুহাতে শ্যালিকাকে যশোরে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন ডা. রাফসান জানি। সেখানে আসার পর থেকেই শুরু হয় চিকিৎসকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অপরাধীর আগ্রাসন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন ডা. রাফসান এবং সেই ঘটনার একটি আপত্তিকর ভিডিও গোপনে ধারণ করে রাখেন।
সেই গোপন ভিডিওই পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ও সামাজিক মর্যাদার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে দীর্ঘদিন যাবত তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হতো। পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং লোকচক্ষুর আড়ালে রাখতে মণিরামপুরে একটি বাসা ভাড়া নেন ওই চিকিৎসক। সেখানে তাকে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস ও নানাবিধ ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্যাতন সইতে না পেরে অবশেষে মণিরামপুর থানায় দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ ও মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শ্যালিকা। মামলা হওয়ার পর থেকেই সুচতুর এই চিকিৎসক গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজলেও কোনো হদিস মিলছিল না। অবশেষে পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে তার নিজ বাসভবন ঘেরাও করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ডা. রাফসান জানির অপরাধের খতিয়ান অবশ্য এখানেই শেষ নয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও তার বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দুই সাংবাদিকও তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে রেখেছেন।সেবা ও মানবিকতার প্রতীক 'চিকিৎসক' পেশার একজনের এমন কলঙ্কিত অধ্যায় প্রকাশ্যে আসায় পুরো যশোর জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। সুশীল সমাজ এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
© Deshchitro 2024