|
Date: 2026-05-26 02:29:57 |
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে শুধুমাত্র মহিষ ও ভেড়ার জন্য একটি বিশেষ হাট বসানো হয়েছে। উপজেলার ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়নের আলীরপোল হাটে বসা এই বাজারে মহিষ ও ভেড়া ছাড়া অন্য কোনো পশু তোলা হয় না। মিরসরাই ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে ক্রেতারা এখানে মহিষ ও ভেড়া কিনতে আসছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সমুদ্র উপকূলবর্তী এই উপজেলার বিশাল চরাঞ্চলে সবুজ ঘাস খেয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে অসংখ্য মহিষ ও ভেড়া। কোরবানিতে এসব পশুর বাড়তি চাহিদার কথা বিবেচনা করেই মিঠানালা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলীরপোল এলাকায় এই বিশেষ হাটের আয়োজন করা হয়েছে। এই হাটে ছোট, মাঝারি ও বড়—সব ধরনের মহিষ পাওয়া যাচ্ছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে লালনপালন করা হয় বলে চট্টগ্রামজুড়ে এই এলাকার মহিষের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
ওই এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন জানান, প্রতিবছর তাদের এলাকা থেকে অসংখ্য মহিষ ও ভেড়া বিক্রি হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো হাট না থাকায় বিক্রেতাদের যেমন সমস্যা হতো, তেমনি ক্রেতারাও ঝামেলায় পড়তেন।
ইকবাল হোসেন আরও জানান, এই সমস্যা সমাধানে এবার হাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে ৮০ হাজার থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকার মধ্যে মহিষ পাওয়া যাচ্ছে। খোলা চরে কৃষিকাজের পাশাপাশি কৃষকরা এসব পশু পালন করেন বলে এদের মাংস বেশ সুস্বাদু হয়।
ইছাখালী ইউনিয়নের টেকেরহাট এলাকার ভেড়া খামারি সৈয়দুল হক জানান, হাটে একেকটি ভেড়া ১০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তার নিজের কাছে ৩০০টি ভেড়া রয়েছে। একসময় ৫০০ ভেড়া থাকলেও কিছু বিক্রি হয়ে গেছে এবং কিছু মারা গেছে। বিক্রির উদ্দেশ্যে তিনি অনেকগুলো ভেড়া আলীরপোল বাজারে নিয়ে এসেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল হোসেন দুলাল জানান, মূলত স্থানীয়দের মহিষ ও ভেড়া নিয়ে এই হাটের আয়োজন করা হয়েছে। আগে এসব পশু কিনতে মানুষের অনেক কষ্ট হতো, কিন্তু এখন বাজারে এসে সবাই পছন্দমতো মহিষ বা ভেড়া কিনতে পারছেন।
আলীরপোল হাটে মহিষ কিনতে আসা খৈয়াছরা এলাকার ক্রেতা মাহতাব উদ্দিন মিঠু জানান, তারা গত কয়েক বছর ধরে মহিষ কোরবানি দিয়ে আসছেন। আগে খুঁজে খুঁজে মহিষ কিনতে হলেও এবার বাজার বসায় কোনো ঝামেলা হয়নি। তিনি হাটে এসে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি মহিষ কিনেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরুর মাংসের তুলনায় মহিষের মাংসে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক কম। মহিষ ও ভেড়ার মাংস খেলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি থাকে না এবং শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় না। এ কারণে মানুষের কাছে এখন মহিষ ও ভেড়ার মাংসের চাহিদা আগের চেয়ে বেড়েছে।
মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাকিরুল ফরিদ জানান, এবার কোরবানি উপলক্ষে উপজেলায় প্রায় ৫৩ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৭৮টি মহিষ এবং ৩ হাজার ৪৬৯টি ভেড়ার চাহিদা রয়েছে।
ডা. জাকিরুল ফরিদ আরও জানান, আলীরপোল এলাকায় শুধু মহিষ ও ভেড়ার বাজার বসার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। আগে মহিষ ও ভেড়া সেভাবে বাজারে তোলা হতো না, ক্রেতারা সরাসরি খামার থেকেই কিনতেন। গত কয়েক বছর ধরে এই হাট বসায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের জন্যই অনেক সুবিধা হয়েছে।
© Deshchitro 2024