মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা-বাগানে  আইফোন প্রো ম্যাক্স কুড়িয়ে পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান এর সাথে পরামর্শ করে শ্রীমঙ্গল থানায় জমা দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি চালক অজয় হাজরা।

জানা গেছে, গত রোববার (২৪ মে) সদর ইউনিয়নের ভাড়াউড়া চা বাগানের কালী মন্দিরের পাশে একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স কুড়িয়ে পান ড্রাইভার অজয় হাজরা। সাধারণ মানুষের কাছে এমন দামি মোবাইল পাওয়া এক বড় লোভের বিষয় হলেও অজয় হাজরা কোনো দ্বিধা না করে তা শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান এর সাথে পরামর্শ করেন। ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে ফোনটি শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম মুন্নার কাছে হস্তান্তর করার পরামর্শ দেন।

এরপর শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ গুরুত্বের সাথে মোবাইলটির প্রকৃত মালিকের সন্ধানে কাজ শুরু করে। সিম কার্ডের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সূত্র ধরে মালিককে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। 

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, মোবাইলটির মালিক উপজেলার সাতগাঁও এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে বসবাস করছেন। দেশে বেড়াতে এসে অসাবধানতাবশত মোবাইলটি হারিয়ে ফেলেন।

অবশেষে মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে মোবাইলটির প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেন শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না।

অজয় হাজরা বলেন, মোবাইলটি পাওয়ার পর আমি টেনশনে ছিলাম, মোবাইলের মালিককে কিভাবে বের করবো। এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম আমাদের ইউএনও স্যারের কাছে জমা দেবো। স্যার হয়তো চেষ্টা করলে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করতে পারেন। পাওয়ার কিছু সময় পর আমি ইউওন স্যারের কাছে পরামর্শ চাইলে স্যার থানায় জমা দেয়ার পরামর্শ দেন।

হারানো মোবাইল ফোন পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মোবাইলের মালিক। তিনি বলেন বাগানে ঘুরতে এসে মোবাইলটি কখন যে পড়ে গিয়েছিল তা বুঝতে পারিনি। হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটির জন্য উদ্বেগে ছিলাম। অজয় হাজরাকে ধন্যবাদ জানাই। তার সততায় মোবাইলটি ফিরে পেয়েছি। বর্তমান সময়ে এমন সততার উদাহরণ সত্যিই বিরল। এছাড়াও গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই ইউএনও মহোদয় ও থানার ওসি সাহেবকে। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় হারানো ফোনাটি ফিরে পেয়েছি।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, সিম কার্ডের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সূত্র ধরে চেষ্টা করেছি মোবাইলের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করতে। অবশেষে আমরা মোবাইলের প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করেতে মোবাইলটি প্রকৃত মালিকের হাতে হস্তান্তর করেছি। এসময় থানার ওসি, মোবাইলের মালিক ও চালক উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, অনেকের কাছে এমন দামি মোবাইল পাওয়া  লোভের বিষয় হলেও গাড়ি চালক অজয় হাজরা এখানে সততার পরিচয় দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমার কাছে তার সততার বিষয়টি খুবই ভালো লেগেছে। অজয় হাজরার এই সৎ ও মানবিক কাজ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। 

এদিকে চালক অজয় হাজার এমন সততা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ব্যাপক প্রশংসা কুঁড়াচ্ছে। অনেকে পোস্ট-কমেন্টে বলছেন, হাজরা সততার পরিচয় দিয়ে সমাজর বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার মতো যুবকের সততা ও মানবিকতা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024