|
Date: 2026-06-03 14:45:43 |
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে বসন্তপুর সীমান্ত সংলগ্ন বাঁশঝাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে প্রথমে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতরা হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মহিউদ্দিন (৪২), তিনি গোলাম রব্বানীর ছেলে এবং একই গ্রামের মৃত খাজের আলী সরদারের ছেলে মো. শাহিন (২৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মহিউদ্দিন ও শাহিন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের কলকাতা হয়ে তামিলনাড়ু রাজ্যে যান। সেখানে তারা রাজমিস্ত্রির শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন কাজ করার পর দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তারা বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে রওনা হন।
সূত্র আরও জানায়, বুধবার গভীর রাতে তারা কালিন্দী নদী সাঁতরে বসন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে দুইজনই গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ভোররাত পৌনে ৫টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুজায়েত হোসেন জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে আহতরা ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলির শিকার হয়েছেন। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আহতদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়েছে।
তবে সীমান্তে গুলি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নীলডুমুরে অবস্থিত বিজিবি-১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহরিয়ার রাজিব। তিনি বলেন, ঘটনার রাতে তিনি নিজে উপ-অধিনায়ককে সঙ্গে নিয়ে বাঁশঝাড়িয়া ও শৈলপুরসহ সীমান্ত এলাকায় টহলে ছিলেন। তার ব্যাটালিয়নের আওতাধীন কোনো সীমান্ত এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন সময়ে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে থাকে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং নিরস্ত্র নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আহত দুই বাংলাদেশির চিকিৎসা চলছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থার ওপর স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনদের নজর রয়েছে।
© Deshchitro 2024