ঈদুল আজহার ছুটিকে ঘিরে শেরপুরের গারো পাহাড়সংলগ্ন দুই জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র এবং মধুটিলা ইকোপার্ক পরিণত হয়েছে ভ্রমণপিপাসু মানুষের মিলনমেলায়। ঈদের দিন থেকেই হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই দুই স্থান।


ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা উঁচু-নিচু পাহাড়, সবুজ বনভূমি, লেক এবং নির্মিত বিভিন্ন বিনোদন সুবিধার সমন্বয়ে গজনী ও মধুটিলা এখন ঈদ আনন্দের অন্যতম আকর্ষণ। পরিবার-পরিজন নিয়ে শহরের ব্যস্ততা ও যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি খুঁজতে এখানে ছুটে এসেছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।


গজনী অবকাশ পিকনিক স্পটের ঝুলন্ত সেতুর ইজারাদার সানোয়ার হোসেন জানান, এবারের ঈদে পর্যটকের উপস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড়ে পুরো এলাকা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত দীর্ঘ ওয়াকওয়ে পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি এই পথ ধরে লেকের পাশ দিয়ে হেঁটে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। এছাড়া লেকে নৌভ্রমণ, পাহাড়তলীতে কফি আড্ডা, গান-বাজনা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগও পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে।


গারো মা ভিলেজে বসে দর্শনার্থীরা উপভোগ করছেন পাহাড়ি জনপদের জীবনধারা, বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত এবং গারো সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির নানা দিক। শিশুদের জন্য রয়েছে চুকুলুপি চিলড্রেনস পার্ক ও নতুন শিশু কর্ণার। পাশাপাশি ঝুলন্ত সেতু, সেলফি ব্রিজ, লাভ সেলফি জোন এবং লেকের ওপর নির্মিত ভাসমান সেতুও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।


জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক হুমায়ুন বলেন, “প্রতিবছরই ঈদের ছুটিতে এখানে আসি। প্রকৃতির মাঝে কিছুটা সময় কাটানোর অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ।”


ঢাকা থেকে আগত এক দর্শনার্থী বলেন, “শহরের কোলাহল থেকে দূরে গারো পাহাড়ের এই পরিবেশ মনকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। ঈদের আনন্দ যেন এখানে এসে পূর্ণতা পায়।”


পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ঝিনাইগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আল-আমীন বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ায় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।


ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে আনন্দ খুঁজতে আসা মানুষের ভিড়ে গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র ও মধুটিলা ইকোপার্ক এখন যেন উৎসবমুখর এক প্রাণচঞ্চল জনপদ।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024