লাখাইয়ে মন্দিরে অপবিত্র মল ও শশ্মানে ভাংচুর, আতংকিত হিন্দু সমাজ । লাখাইয়ে  মন্দির ও শ্মশানে ভাঙচুর ও অপবিত্র করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সমাজের  মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্ববুল্লা গ্রামে  সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরে উপরে  থাকা হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র ও শ্রীকৃষ্ণের ছবিতে মলমূত্র লেপন করে অপবিত্র করে। এর দুই দিন পর মঙ্গলবার গভীর রাতে মহাশ্মশানের টিউবওয়েল ভাঙচুর করা হয়। একই সঙ্গে পূজা শেষে সংরক্ষিত একটি কালী মূর্তি ভেঙে শ্মশানের চুলার ভেতরে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পূর্ব বুল্লা গ্রামে বাসিন্দা লাখাই উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যান ফ্রন্টের যুগ্ম আহবায়ক ক্ষিতিশ গোপ  বলেন, “পূর্ব বুল্লা মোদক হাটির একটি ব্যক্তিগত মন্দিরে হরে কৃষ্ণ নাম মুছে ফেলে মল দিয়ে মন্দিরে লেপ দিয়ে পবিত্রতা নষ্ট করছে, শশ্মানে টিউবওয়েল  ভাংচুর শশ্মানে থাকা মূর্তি ভেঙে শশ্মানে চুলার উপর রেখে দিয়েছে।   একই গ্রামের বাসিন্দা সুমন রায় বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা কোনো সচেতন, বিবেকবান ও সুশিক্ষিত মানুষের কাজ হতে পারে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতাই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের ভিত্তি। আমরা সব ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে বিশ্বাসী। স্থানীয়রা জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও শ্মশান অপবিত্র করা শুধু অপরাধ নয়, এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবতার বিরুদ্ধেও জঘন্য কর্মকাণ্ড। তারা বলেন, “অপরাধীর কোনো ধর্ম নেই। যারা এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।” এ বিষয়ে বুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন চন্দ্র গোপ  বলেন, “দুই দিন আগে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা একটি মন্দিরে মলমূত্র লেপন করে। পরে মঙ্গলবার রাতে আবার শ্মশানের মন্দির এলাকায় টিউবওয়েল ভাঙচুর এবং পূজার শেষে রেখেছিল মূর্তি ওই  মূর্তিকে ভেঙে শ্মশানের চুলার মধ্যে রেখে যায় । কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনার লাখাই উপজেলা শাখার  বাংলাদেশ হিন্দু  বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যান ফ্রন্টের আহবায়ক আশীষ দাশ গুপ্ত ও সদস্য সচিব রনজিত দেব  তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ  করে   অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে থানা পুলিশ এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) শরীফ আহমেদ এর সাথে আলাপকালে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন শ্মশানের একটি টিউব ওয়েল ভাংগা অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশ এর রহস্য উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024