|
Date: 2026-06-05 22:30:44 |
জামালপুরের ইসলামপুরে আশরাফ আলী নামে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক মেম্বারকে আটকের ৬ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে থানায় থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত এসআইয়ের নাম জিল্লুর রহমান।
ভুক্তভোগী আশরাফ আলী উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউপির সাবেক মেম্বার এবং ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের মুসুল্লির ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের ইউনিয়ন শাখার সভাপতি পদে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাত ১১টার দিকে ইসলামপুর থানা থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে একইদিন বিকেল ৫টার দিকে মোবাইল ফোনে আশরাফ আলীকে ডেকে নিয়ে থানার একটি কক্ষে আটক রাখেন এসআই জিল্লুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী মৃত জবেদ আলী মোল্লার ছেলে কোরবান আলীর সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে আশরাফ মেম্বারের। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা চলছে। গত ৩০ মে সন্ধ্যায় কোরবান আলীর সঙ্গে আশরাফ মেম্বারের কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এনিয়ে ওইদিন রাতে কোরবান আলী বাদী হয়ে আশরাফ মেম্বারসহ, তাঁর স্ত্রী এবং দুই ছেলের নামে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের পেক্ষিতে মোবাইল ফোনে কথা বলে আশরাফ মেম্বারকে থানায় ডেকে নেন এসআই জিল্লুর রহমান। থানায় প্রবেশের মাত্রই আশরাফ মেম্বারকে একটি কক্ষে ঢুকিয়ে তালাবদ্ধ করে দেন এসআই জিল্লুর রহমান। পরে কোরবান আলীর সঙ্গে আর কোনদিন বিরোধে জড়াবে না মর্মে মুচলেকা নিয়ে আশরাফ মেম্বারকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী কোরবান আলী বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে আশরাফ মেম্বার আমাদের হয়রানি করে আসছে। আমাদের জমি জবরদখল করেছে। আমাদের বসতবাড়ির সামনে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে আমাকে ধরে বাড়িতে নিয়ে আশরাফ মেম্বারসহ তাঁর ছেলে জীবন শেখ ও জাহাঙ্গীর মারধর করেছে। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা করিয়েছেন। এনিয়ে আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি। মুচলেকা নিয়ে আশরাফ মেম্বারকে থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছেন এসআই জিল্লুর রহমান।
থানা থেকে ছাড়া পেয়ে আশরাফ আলী মেম্বার বলেন, 'কোরবান আলীকে মারধর করা হয়নি। তবে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে এসআই জিল্লুর রহমান আমাকে থানায় যেতে বলেন। থানায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে আকট করেন তিনি। পরে মুচলেকা নিয়ে ৬ ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।'
ইসলামপুর থানার এসআই জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, 'মামলা হয়নি। তবে অভিযোগের পেক্ষিতে আশরাফ আলীকে থানায় ডেকে আনা হয়েছিলো। পরে তাঁরা নিজেরা মিমাংসা হওয়ায় তিনি চলে যান।'
আশরাফ আলী মেম্বারকে থানায় ডেকে নিয়েছিলেন কী? এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে এসআই জিল্লুর রহমান বলেন, 'তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছুই করা যায়।'
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ইসলামপুর থানার বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় নিজ বাড়ি থেকে আশরাফ আলী মেম্বারকে আটক করে ইসলামপুর থানা-পুলিশ। ওই মামলায় বেশকিছু দিন পর কারাগার থেকে জামিন মুক্তি পান তিনি।
© Deshchitro 2024