দিনাজপুর সদরে প্রকাশ্য দিবালোকে গোপেশ চন্দ্র রায় নামে এক রংমিস্ত্রিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে নির্মম শারীরিক নির্যাতন ও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। সদরের ৭ নং উথরাইল ইউনিয়নের মিন্টু চন্দ্র রায়সহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৯জুন দুপুরে গোপেশ চন্দ্র রায় নিজের কাজকর্ম শেষ করে ৭ নং উথরাইল ইউনিয়নের ফুলতলা বাজারে নাস্তা খাচ্ছিলেন। উক্ত সময়ে মিন্টু চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে একদল সংঘবদ্ধ ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিতভাবে গোপেশের ওপর চড়াও হয়ে সেখানেই মারধর শুরু করে।এক পর্যায় গোপেশ চন্দ্র রায়কে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্ব মোটরসাইকেলে উঠিয়ে সদর উপজেলার ৮ নং শংকরপুর ইউনিয়নের মোহনপুর ব্রিজ সংলগ্ন মহেশপুর গ্রামের একটি নির্জন কলাবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে গোপেশ চন্দ্রকে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালায়।
লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার চোখে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। একপর্যায়ে আক্রমণকারীরা তার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।"
গোপেশ চন্দ্র রায়ের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় কোনো কারণ ছাড়াই মিন্টু চন্দ্র রায় ও তার লোকজন গোপেশকে তুলে নিয়ে যায়। আমরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে আমাদেরও হুমকি দেওয়া হয়। পরিশেষে কোন কুল কিনারা না পেয়ে থানায় খবর দেয়া হয়। এ তথ্য মিন্টু চন্দ্র রায় সহ তার সঙ্গীয় লোকজন জানার পর তড়িঘড়ি করে গোপেশ চন্দ্র রায় কে কলাবাগানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন গিয়ে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়ার পর ১০ নং কোমলপুর ইউনিয়নের দানীহারি উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত বীরেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে গোপেশ চন্দ্র রায় বাদি হয়ে ৭ নং উথরাইল ইউনিয়নের রামপুর- বেঙ্গলদিঘী এলাকার গোষ্ঠ চন্দ্র রায়ের ছেলে মিন্টু চন্দ্র রায়কে প্রধান আসামি করে তার স্ত্রী হীরা মনি রায়,১০ নং কমলপুর ইউনিয়নের দানিহারী উত্তরপাড়া গ্রামের অতুল চন্দ্র রায়ের ছেলে খগেন চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী জনতা রানীসহ চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।