গোয়ালন্দে পুলিশের কাছ থেকে হ্যান্ডকাপসহ মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনতাই ঘটনায় তোলপাড়,  থানায় মামলা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাদকের স্বর্গরাজ্য খ্যাত দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর পাশে অবস্থিত পুড়াভিটায় মাদকবিরোধী অভিযানকালে প্রশাসনের ওপর হামলা ও হ্যান্ডকাপ পরানো ফয়সাল নামে গ্রেফতারকৃত এক মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ২১ জুন রবিবার রাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে রাজবাড়ীর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে দৌলতদিয়া পুড়াভিটা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসীর হাসান খান। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা তার সঙ্গে ছিলেন। অভিযানে আশীষ চন্দ্র শীল (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে গাঁজাসহ হাতেনাতে আটক করে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত আশীষ চন্দ্র শীল ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বেলিশ্বর এলাকার মৃত আনন্দ চন্দ্র শীলের ছেলে।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযানকালে পুড়াভিটা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফয়সালকে (২৪) প্রকাশ্যে হেরোইন বিক্রিকালে কয়েক পুড়িয়া হেরোইন ও নগদ টাকাসহ আটক করে হাতে হ্যান্ডিক্যাপ পড়ায়। এ সময় ফয়সালকে ছাড়িয়ে নিতে সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপর চড়াও হয়। এর এক ফাঁকে ফয়সাল তাদের হাত থেকে ছুটে অপর প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী লাইলী বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এসিল্যান্ড মুনতাসির সহ মাদক বিরোধী টিমের সদস্যরা লাইলির বাড়িতে ঢুকে ফয়সালকে আটকের চেষ্টা করেন। কিন্তু লাইলীসহ সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীদের বাঁধায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে ব্যার্থ হন। পরবর্তীতে ফয়সাল বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এদিকে সংঘবদ্ধ মাদক কারবারিদের হামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকজন সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনতাসীর হাসান খানের নির্দেশে রবিবার রাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ  অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ রাসেল আলী বাদী হয়ে ৩২ জনের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটা মামলা দায়ের করেন। সোমবার বিকেল ৫ টা পর্যন্ত পুলিশ এ ঘটনায় পলাতক ফয়সাল সহ কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসীর হাসান খান বলেন, “ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের নিয়ে আমি দৌলতদিয়া পুড়াভিটা এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে দুইজনকে মাদকসহ আটক করা হয়। একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি ফয়সালকে মাদক ও নগদ টাকাসহ আটক করার পর লাইলি বেগমের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ মাদক কারবারিরা হামলা চালিয়ে তাকে একপ্রকার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। শক্তিশালী এই মাদক সিন্ডিকেটকে নির্মুল করতে আমি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চাই। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, রবিবার রাতে থানায় মামলা দায়েরের পর আমরা হ্যান্ডিক্যাপ সহ পলাতক আসামি ফয়সাল সহ সকল আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে কথা বলতে রাজবাড়ী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিডি আবু আব্দুল্লাহ এবং  মামলার বাদী পরিদর্শক রাসেল আলীর মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপর মাদক সিন্ডিকেটের হামলা এবং আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। সচেতন মহল মাদক ব্যবসায়ীদের খুটির জোর কোথায় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তারা মাদক সম্রাজী লাইলী বেগম সহ চিহ্নিত সকল মাদকের ডিলার ও ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং এলাকাকে মাদকমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। ইতিপূর্বে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী -১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও অবস্হার কোন উন্নতি না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024