|
Date: 2026-06-24 19:14:37 |
আবু তালেব, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি :
নাটোরের লালপুর উপজেলায় আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এক সময়ের জনপ্রিয় অর্থকরী ফসল পাট। কয়েক বছর ধরে চাষ কমে গেলেও এবার নতুন করে আশার আলো দেখছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া, কম রোগবালাই ও ভালো দামের প্রত্যাশায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাট চাষে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও পদ্মার চরাঞ্চলে মোট ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা গত মৌসুমের তুলনায় ১ হাজার ৯৫ হেক্টর বেশি। এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৯১ বেল।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাই কম থাকা এবং বাজারে ভালো দামের সম্ভাবনা—এসব কারণে আবারও পাট চাষে ঝুঁকছেন তারা। বড়বড়িয়া গ্রামের কৃষক মো. বেলাল হোসেন জানান, গত দুই মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি।
গৌরীপুর গ্রামের কৃষক মো. আল আমিন সজল বলেন, ডিজেলের দাম বেশি হলেও রোগবালাই কম থাকায় উৎপাদন খরচ কিছুটা কমেছে। প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পাট উৎপাদনের আশা করছেন তিনি।
কচুয়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, পাট পরিবেশবান্ধব ফসল হওয়ায় এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। প্রকৃত কৃষকদের মাঝে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রণোদনা বিতরণ, বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং বন্ধ পাটকল চালু করা গেলে পাট চাষে আরও গতি আসবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থাও করার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১ হাজার কৃষকের মাঝে উন্নতমানের পাটবীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে আবাদ বেড়েছে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। ফলে লালপুরে পাট চাষে আবারও সুদিন ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
© Deshchitro 2024