মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহর আজীবনের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ বাতিলের প্রতিবাদে তাঁর নিজ এলাকা জামালপুরের ইসলামপুরে বিএনপি নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুঁসে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়ার সয়লাব লক্ষণীয়। ফেসবুকে কেউ লিখেছেন, প্রখ্যাত চিকিৎসক এবিএম আব্দুল্লাহর নিয়োগ বাতিল করা ঠিক হয়নি। কেউ লিখেছেন, বিশ্ববরেণ্য চিকিৎসকের নিয়োগ বাতিল করায় আমরা লজ্জিত। আবার কেউ কেউ লিখেছেন তাঁকে স্বপদে ফিরে আনা হোক। 


জানা গেছে, গত ২৪ জুন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামালের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ইমেরিটাস অধ্যাপকের দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহর নিয়োগ বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে ইমেরিটাস অধ্যাপকের বিপরীতে নেওয়া বেতন ও ভাতার অর্থ ফেরত দিতে বলা হয়েছে।


এনিয়ে ডাক্তার এবিএম আব্দুল্লাহর নিজ উপজেলা ইসলামপুরে বিএনপি নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাঁকে স্বপদে পুনঃবহালের দাবি জানিয়েছেন।


উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সাইদ বাদশাহ তাঁর ফেসবুক পোষ্টে লিখেছেন, 'চিকিৎসা জগতের শিক্ষক প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ দলমত নির্বিশেষে একজন ভালো মানুষ। তাঁর লেখা বইগুলো চিকিৎসা জগতে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে। এদেশে তাঁর মতো এতবড় ডাক্তারের মাত্র তিনশত টাকা ভিজিট! যাঁর ছাত্রদের ভিজিট দুই হাজার টাকা। এরকম একজন বিরল মানুষটাকে কোনোভাবেই অপমান করা ঠিক হবে না।


বিএনপি নেতা আবু সাইদ বাদশাহ জামালপুরের পাঁচটি আসনের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে ফেসবুক পোষ্টে আরও লিখেছেন, 'জামালপুরের কৃতী সন্তান ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর সম্মান রক্ষার করা আপনারদের রাজনৈতিক দায়িত্ব। আপনারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিষয়টির একটি সম্মানজনক সমাধান করবেন ইনশাআল্লাহ। বিএনপির এই সুনাম আগামীর রাজনীতিতে প্রভাব পড়বে।'


উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবির আহমেদ বিপুল মাস্টার তাঁর ফেসবুক পোষ্টে লিখেছেন, 'রাজনীতি ও প্রতিহিংসার প্রভাব এখনো আমাদের সমাজকে ঘিরে রেখেছে। আশা করি, আমরা এসব সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব। অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ সবকিছুর ঊর্ধ্বে, সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা, মানবিকতা, চিকিৎসাসেবার জন্য তিনি একজন অত্যন্ত ভালো মানুষ এবং একজন দক্ষ চিকিৎসক। এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়।'


সাবেক ছাত্রদল নেতা নাঈম ইসলাম তাঁর ফেসবুক পোষ্টে লিখেছেন, 'বিষয়টি খুবই নিন্দনীয়। 


ইসলামপুরের বাসিন্দা ও বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ ফেসবুকে পোষ্টে লিখেছেন, 'এবিএম আব্দুল্লাহ বাংলাদেশের চিকিৎসা জগতের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক নন। হাজার হাজার চিকিৎসকের শিক্ষক এবং অসংখ্য মানুষের আস্থার প্রতীক। এমন একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যে আচরণের অভিযোগ সামনে এসেছে, তা একজন সচেতন নাগরিক এবং ইসলামপুরের একজন মানুষ হিসেবে আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্র—সবারই উচিত দেশের গুণী, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সম্মানবোধ ও শালীনতা কখনো হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান করছি।'


নিয়োগ বাতিল আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় সিন্ডিকেটের একজন সদস্যের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়। একই সিন্ডিকেটে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংশোধন করে পুনরায় অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহর নিয়োগ (আজীবন) দেওয়া হয়, যা বিধিবহির্ভূত। একই সিন্ডিকেট অধ্যাদেশ সংশোধন করে নিয়োগ অনুমোদন করা যায় না। সেকারণেই বিধিবহির্ভূত হওয়ায় নিয়োগ বাতিল করা হয়। 


গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক ডিন এবিএম আবদুল্লাহ। তিনি ইসলামপুরের হাড়িয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং ইসলামপুর সরকারি নেকহাজান মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক কৃতী  শিক্ষার্থী।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024