বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিরীহ গ্রামবাসীকে ফাঁসাতে ‘খ্রিস্টান ধর্মগ্রন্থ বাইবেল’ পোড়ানোর নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এই স্পর্শকাতর ও কাল্পনিক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং একের পর এক হয়রানি থেকে মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
​২৮ জুন (রবিবার) সকালে সারিয়াকান্দি মডেল প্রেসক্লাবের সামনে রামনগর এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের যৌথ ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ব্যানার, ফেস্টুন হাতে এতে এলাকার সর্বস্তরের নারী-পুরুষ অংশ নেন।
​মানববন্ধনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে তীব্র ক্ষোভ ও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন মোসাদ্দিকা নাজনীন, সৈকত, আজিজার রহমান এবং নাহিদ জামান সৌরভসহ আরও অনেকে।
​বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রভাব খাটিয়ে রামনগর এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও মামলাবাজ আনোয়ার রহমান সুমন (এ রহমান), রুমা এবং লিন্ডা রায় দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জমি ও শান্তি বিনষ্ট করছে। তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই মিথ্যা মামলার খড়্গ নেমে আসে। এই চক্রটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাহিদ জামান সৌরভসহ রামনগর এলাকার প্রায় ২৪ থেকে ২৫ জন নিরীহ মানুষের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে যাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত না করেই আমাদের ওপর ধারাবাহিক হয়রানি চালাচ্ছে।
​মানববন্ধনে নিজের ওপর নেমে আসা অন্যায়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী যুবক নাহিদ জামান সৌরভ। তিনি বলেন, এর আগেও এই চক্রটির দায়ের করা একটি সম্পূর্ণ সাজানো ও মিথ্যা মামলায় আমাকে অন্যায়ভাবে ১৭ দিন কারাবরণ করতে হয়েছিল। কিন্তু সত্য গোপন থাকে না। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে। আদালতে হেরে গিয়ে এবার তারা আরও ভয়ঙ্কর চাল চেলেছে। আমাদের সামাজিকভাবে ধ্বংস করতে এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিতে ‘বাইবেল পোড়ানোর’ মতো একটি জঘন্য ও কাল্পনিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
​মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়কে যারা নিজেদের স্বার্থে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, তারা সমাজের শত্রু। অবিলম্বে এই কাল্পনিক ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।
​বক্তারা অনতিবিলম্বে এই ‘মিথ্যা মামলা’ থেকে রামনগরবাসীকে অব্যাহতি দিতে এবং মামলার নেপথ্যে থাকা কুচক্রী সুমন, রুমা ও লিন্ডা রায়কে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024