রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় সীমাহীন  লোডশেডিং দুর্ভোগে মানুষ।
চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান বাঘার বিদ্যুৎ অফিসের সংশ্লিষ্টরা। এদিকে সামনে জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে এইসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এই সময়ে এভাবে লোডশেডিং বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘা’র মতো।
এদিকে লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, দিনভর ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনমনে নাভিশ্বাস উঠছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন থেকে উপজেলাজুড়ে শুরু হয়েছে লোডশেডিং।
উৎপাদন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হচ্ছে। তবে এর কার্যকর কোন উদ্যোগ চোখে পড়ছেনা।
রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ ঘন্টার মধ্যে গড়ে ৭ ঘন্টাও বিদ্যুৎ মিলেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় গরমে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছায় ঘরে বাইরে কোথাও একটু স্বস্তি মিলছেনা। দিনের বেলায় ১ ঘন্টা পর পর থাকছেনা বিদ্যুৎ। এমনকি রাতেও একইভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের তীব্রতা ও লোডশেডিংয়ে সীমাহিন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থরা পড়েছেন বিপাকে। তীব্র গরমে অতিরিক্ত ঘেমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। অফিস-আদালতে কাজে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।
বাঘা পৌর এলাকার চাকিপাড়া গ্রামের এইসএসসি সমমান পরীক্ষার্থী আবু সাঈদ বলেন, সারাদিনে কতবার বিদ্যুৎ যায়, তার হিসাব নেই। গত কয়েক দিন শুধু রাতেই পাঁচ-সাতবার লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে দুই ঘণ্টা পরে আসে। গরমের কারণে ঠিকমতো পড়া-লেখা ও ঘুমানো যাচ্ছে না।
বাঘা পৌর সদর জোতসায়েস্তা গ্রামের অটোরিকশাচালক খোরশেদ আলম বলেন, চার সদস্যের সংসার আমার। এই অটো চালিয়েই সংসার চলে। রাতে ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ হচ্ছে না। চার্জ না থাকায় ঠিকমতো ভাড়াও মারতে পারছি না। সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে গেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, সম্প্রতি বিদ্যুৎ এর মূল্য বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। অনেকের দাবি, গত মাসে যাদের বিল ছিল ৩০০০ টাকা, চলতি মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০০০ টাকা। আবার যাদের বিল ১০০০ টাকার মধ্যে ছিল, তাদের কাউকে প্রায় ২০০০ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ
করতে হচ্ছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ এর মূল্য বৃদ্ধি এবং অব্যাহত লোডশেডিং গ্রাহকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে বারোখাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুস্তম আলী বলেন, সামনে  স্কুলের প্রথম সাময়িক  পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। এসময় সীমাহীন বিদ্যুৎতের লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। একঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া গেলে দুই ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হয়। এভাবে লোডশেডিং অব্যহত থাকলে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে।
বাঘা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মনিরুজ্জামান বলেন, বাঘায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রীড হতে  বরাদ্দ পাচ্ছি ৮/১০ মেগাওয়াট। যার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে।#

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024